হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এগিয়ে এলে সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি আজমায়ি বলেছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য অপেক্ষা করছে ইরানি বাহিনী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আলি আজমায়ি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দুর্বলতার কারণে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আসতে সাহস পাচ্ছে না।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি
ইরানি নৌবাহিনীর এই কমান্ডার বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি, কখন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আসবে, যাতে আমরা সেগুলো ডুবিয়ে দিতে পারি।’ এ ধরনের মুখোমুখি সংঘর্ষের জন্য ইরানি বাহিনী সময় গুনছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজমায়ির দাবি, প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরি হরমুজ প্রণালি থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। তবে তাঁর এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা নাকি বন্ধ এবং এর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা দেখতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সেখানে আসতে হবে।
ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইরানের আইআরজিসির নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও কটাক্ষ করেছে সেন্টকম। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে রয়েছে বলে ইরানি কমান্ডারের দেওয়া বক্তব্যও নাকচ করেছে মার্কিন সামরিক কমান্ডটি।
সেন্টকমের দাবি, গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহনে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
এদিকে হরমুজ প্রণালির ভেতরে অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা অস্ত্রের আঘাতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং জাহাজে হামলার খবরের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
The post হরমুজের দিকে এগোলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়ার হুমকি ইরানের appeared first on SATV.
