অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকার ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, নুরুর জামানের বাড়ি ও ভাড়াবাসার বাথরুমের ময়লা পানি নিয়মিতভাবে সড়কের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয়দের দাবি, ময়লা পানি জমে থাকায় সড়কটি নোংরা হয়ে পড়েছে এবং আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ইমাম মুসলিম মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন সড়কটি ব্যবহারকারী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের ভাষ্য, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় ময়লা পানি ফেলার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
আইনজীবী সহকারী রুবেল হোসেন জিয়া বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। সেখানে ময়লা পানি ফেলার কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বারবার জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এ সমস্যার সমাধান দাবি করেন রুবেল হোসেন।
ইলিয়াস মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ইমাম খায়ের স্বপন বলেন, জনসাধারণের চলাচলের সড়কে এভাবে ময়লা পানি ছেড়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ সময় স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দা একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত সড়কে ময়লা পানি ফেলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার মেলেনি। ফলে সড়কে ময়লা পানি জমে থাকা ও দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে জনদুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবেশের ওপর আরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত, ময়লা পানি সড়কে ফেলার উৎস বন্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে নুরুর জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আগামী সপ্তাহে ড্রেনের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে সড়কে পানি যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।” তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
The post দক্ষিণ জানারঘোনায় সড়কে টয়লেটের ময়লা পানি, দুর্ভোগে পাঁচ হাজার মানুষ appeared first on ভোরের চেতনা.
