রাজধানীর উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে একটি গাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওয়াটার ক্যানন ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। অন্যদিকে, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশের দাবি, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে একটি ওয়েজ বোর্ড গঠন করেছে। এতে শ্রমিক প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। এরপরও একটি মহল অন্য পোশাক কারখানাগুলো জোরপূর্বক বন্ধ করে শ্রমিকদের আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল হাতে একদল বিক্ষোভকারী মিছিল নিয়ে বিমানবন্দর মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের বাধার মুখে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক দেখা যায়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে থাকা একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে ওয়াটার ক্যানন এবং পরে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি আঘাত করা হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
আন্দোলনের পেছনে কোনো বিশেষ মহলের ইন্ধন রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি মো. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে আহত শ্রমিকদের সংখ্যা ও তাদের আঘাতের ধরন সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
