কালবেলা · সাধারণ
নারায়ণগঞ্জে পূজার নিরাপত্তায় ৭ প্লাটুন বিজিবি, ৯৩ মণ্ডপে এসআরবির বিশেষ গুরুত্ব
১৭/১০/২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলার ২১৯টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৯৩টিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১)। অন্যদিকে, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বার্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাত প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ জিউস আখড়া ও রামকৃষ্ণ মিশনে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৬২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত এবং এসআরবি-১১’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ।
বিজিবির অধিনায়ক মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত জানান, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা টহল শুরু করেছেন। সাত প্লাটুনের মধ্যে পাঁচ প্লাটুন নিয়মিত টহলে রয়েছে। বাকি দুই প্লাটুন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে জানিয়ে বিজিবির অধিনায়ক বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, এসআরবি-১১’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ জানান, তার ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সাতটি জেলায় মোট এক হাজার ৯৫০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক ১৮টি টহল দল কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জের ২১৯টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৯৩টিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলার নিরাপত্তায় সাতটি টহল দল মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ৩০ জন সদস্য গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স, কুইক রেসপন্স টিম ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সমন্বয় সেলের মাধ্যমে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’ ব্যবহার করেও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে পূজামণ্ডপগুলোয় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে এসআরবি-১১’র সাইবার টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মাদক, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও উচ্ছৃঙ্খলতা দমনে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান এসআরবি-১১’র অধিনায়ক। নাশকতা কিংবা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দুই বাহিনীর কর্মকর্তারাই গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরামর্শ দেন তারা।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার ওপরও গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗