দিল্লি পুলিশের চাওয়া শান্তি মুচলেকায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা। তিনি বলেছেন, এ ধরনের মুচলেকা নাগরিকের মৌলিক অধিকার, প্রতিবাদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মতভিন্নতার পরিপন্থী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) টাইমস নাউয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট নেহা বোরার রিট পিটিশন খারিজ করে দেন। তবে আদালত তাকে বিশেষ নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের (এসইএম) বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বলেছেন। বিচারপতি সুব্রমনিয়াম প্রসাদ নির্দেশ দেন, মেজিস্ট্রেট যেন অনুসন্ধানের সব তথ্য বোরাকে সরবরাহ করেন এবং মুচলেকা কখন জমা দিতে হবে, তা বিবেচনা করেন।
বোরা বলেন, সরকারকে প্রশ্ন না করা এবং ভিন্নমত দমনের নামে চাপিয়ে দেওয়া কোনো অবস্থাকে তারা শান্তি হিসেবে মেনে নেবেন না। তার ভাষ্য, সংবিধান নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে, অথচ এই মুচলেকা সেই অধিকার কেড়ে নেয়। আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি এসইএমের শুনানিতে হাজির হবেন, কিন্তু বন্ডে সই করবেন না।
গত ১৬ অক্টোবর কনট প্লেসে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বোরাকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। পরদিন শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ধারায় ১০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হয় তার কাছে।
আদালতে বোরার আইনজীবী অভীক চিমনী যুক্তি দেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই, আর এই নোটিশ মনগড়া। বিচারক সব নথিপত্র বোরাকে দিতে বলেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।