সিলেটে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হল শারদীয় দুর্গাপূজা
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
সিলেটের চাঁদনীঘাটে সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন। ছবি: খবরের কাগজ
-->সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শেষদিনকে বলা হয় বিজয়া দশমী। অশুভ শক্তি নাশ করতে কৈলাশ ছেড়ে মর্ত্যলোকে এসেছিলেন দেবী দুর্গা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ভক্তদের দুঃখ দূর করে শান্তি বিলিয়ে দিয়ে চলে যাবেন দেবী দুর্গা, তাই মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায় ও বিষাদের ধ্বনি বাজছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ৩টা থেকে সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। শোভাযাত্রা করে নগরীর চাঁদনী-ঘাটে একে একে প্রতিমা নিয়ে জড়ো হন ভক্তরা। এরপর উলুধ্বনি ও বাদ্য বাজিয়ে সুরমা নদীতে একে একে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। এবার দেবীর আগমন হয়েছে ঘোটকে চড়ে। এবং গমন হচ্ছে নৌকায় চড়ে।
সিলেটে প্রতিমা বিসর্জনের সময় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রতিমা নিরঞ্জনের সুবোধ মঞ্চ তৈরি করা হয়। প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। পুলিশের বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত ইউনিটও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। এর আগে, দশমীর দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দেয়ার মাধ্যমে সিঁদুর খেলায় মাতেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন দেবীদুর্গা। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মধ্যে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট জেলা এবং সিলেট মহানগর মিলিয়ে সর্বমোট ৬৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজিত হয়েছে। সিলেট মহানগর এলাকায় ১৬২টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। মহানগরের মণ্ডপগুলোর মধ্যে ১৪৬টি সর্বজনীন ও ১৬টি পারিবারিক। সব মিলিয়ে সিলেট মহানগর এলাকায় সর্বমোট ১৬২টি মণ্ডপে পূজো অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, জেলা পর্যায়ে ৪৪৮টি সর্বজনীন ও ২৬টি পারিবারিক মণ্ডপে পূজা হয়। সিলেট জেলার সর্বমোট ৪৭৪টি মণ্ডপে পূজো অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শাকিলা ববি/এসএন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকের তালে উৎসবের আমেজ ও বিষাদের সুর
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ভক্তদের অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রতিমা বিসর্জন। ছবি: খবরের কাগজ
-->বিজয়া দশমীর পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে জড়ো হয়েছেন লাখো সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ভক্তদের অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে ঢাকের তালে উৎসবের আনন্দ রূপ নিয়েছে বিষাদে।
তেল-সিঁদুর পরিয়ে, পান, মিষ্টি মুখে দিয়ে দেবীকে বিদায় জানাতে সৈকতে ভিড় করেন ভক্ত ও অনুরাগীরা। নানা ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর পূজা শেষে দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত হন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সৈকত এলাকায় নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম নগরীতে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জনের প্রধান আয়োজন করা হয়েছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। এ ছাড়া নগরীর অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়।
পতেঙ্গা সৈকতে লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে সাগরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। সৈকতে ঢাকের তালে উৎসবের আমেজ যেমন ছিল, তেমনি ছিল দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনা।
আরও পড়ুন
বুধবার দুপুর থেকেই পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় ভিড় জমান ভক্তরা। এখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার লোক যেমন ছিল, তেমনি ছিল বিসর্জন দেখতে হাজারো দর্শনার্থী। দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সৈকতে বিসর্জন শুরু হয় দুপুর আড়াইটায়।
এর আগে সকালে ১০ উপাচারে দেবীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। পরে দেবীর চরণে ফুল, সিঁদুর, বেল পাতা ও মিষ্টি দিয়ে বিভিন্ন আচার পালন করে ভক্তরা। নারীরা একে অপরের মাথায় সিঁদুর ছোঁয়ান। দীর্ঘায়ু কামনা করেন পরিবারের সদস্যদের।
এদিকে বিসর্জন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য পতেঙ্গা সৈকতে কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এর পরও প্রতিমাবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে। এসআরবি , কোস্ট গার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর তাৎপর্য শুধু প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়াও এর অন্যতম শিক্ষা। সব ধরনের নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহার করে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায় এ উৎসব।
পতেঙ্গায় বিসর্জন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এবার খুবই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে শারদীয় দূর্গাপূজা। উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হয়েছে। এবারের মতো উৎসব বিগত ১৭ বছরেও হয়নি। আগে আমাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতির মধ্যে রাখা হয়েছিল। তাই পূজা মণ্ডপে ছিল ভয় ও আতংক। কিন্তু এ বারই ব্যাতিক্রম। কোন ধরণের ভয়ভীতি আতংক ছাড়াই উৎসব করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইবোনেরা। আমাদের সরকার সব ধরণের সাপোর্ট করেছিল তাই এতো সুন্দর উৎসব আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যাণার্জী খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া খুবই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের পূজা সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য প্রশাসন ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সবার সমান অধিকার ভোগের জন্য এমনি পরিবেশ দরকার ছিল। পতেঙ্গায় দেবীর বিদায়বেলায় ভক্তদের মনে বিষাদের আবহ, আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের অপেক্ষায় দিন গুনবেন তারা।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পতেঙ্গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে পতেঙ্গায় হিন্দু ভক্তদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের লোকেরাও ভিড় করছে। অনেকে প্রতিমা বিসর্জন দেখার জন্য পতেঙ্গায় এসেছেন।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার, চেরাগী পাহাড়, জামালখান, প্রবর্তক মোড়, দেওয়ানজী পুকুর, রাজাপুর লেন, পাথরঘাটা, আন্দরকিল্লা, হাজারী লেন, নালাপাড়া, আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, উত্তর কাট্টলি ও দক্ষিণ কাট্টলিসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে ছিল ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। হিন্দুশাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। দেবীর বিদায়ের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন সনাতনী নারীরা। প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে তা নিজেদের সিঁথি ও কপালে ধারণ করেন তারা। পরে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে শুভকামনা জানান।
এসএন/
আরও পড়ুন
কচুয়ায় পুকুরে বিষ দিয়ে ১৫ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া এলাকায় একটি মাছের খামারে বিষ প্রয়োগ করে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিপুল পরিমাণ মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আবুল খায়ের।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাটিকরপাড়া সংলগ্ন দক্ষিণ বিলে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত আবুল খায়ের কড়ইয়া গ্রামের হাজী দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ ছয় বছর ধরে লিজ নিয়ে প্রায় ৮ একর জমিতে মাছ চাষ করে আসছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে খামারে গিয়ে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মরা মাছ পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় খামার থেকে মাছ তোলার চেষ্টা করা হয়।
আরও পড়ুন
খামারের পাহারাদার ইব্রাহিম জানান, রাত ১টা পর্যন্ত তিনি পাহারা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তার ধারণা, রাতের কোনো এক ফাঁকে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। এ ঘটনায় খামারি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এবং তার ঋণ পরিশোধ ও পরিবার চালানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
খামারি আবুল খায়ের অভিযোগ করে বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর কড়ইয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি মাদকবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রেখে তরুণদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। এরপর থেকেই একটি চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। মাদক সংশ্লিষ্ট চক্রটি প্রতিশোধ নিতেই খামারে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে বলে তার সন্দেহ। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম আকাশ জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফয়েজ/এএফ
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে ওয়ান শুটার গানসহ যুবক গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরের মতলব উত্তরে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে একটি ওয়ান শুটার গানসহ ফরহাদ হোসেন (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ওয়েস্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ফরহাদ হোসেন ওই এলাকার ছৈয়াল বাড়ির বাসিন্দা।
আরও পড়ুন
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে চর ওয়েস্টার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের একটি দল। অভিযানে ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তার হেফাজতে থাকা একটি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অস্ত্রটি কোথা থেকে কীভাবে এসেছে, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
ফয়েজ/এএফ
আরও পড়ুন
মাগুরায় যুবদল নেতা শাকেরকে গুলি করে হত্যা, টার্গেট কিলিং বললেন এমপি
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
মোঃ শাকের হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
-->মাগুরা পৌর বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে যুবদল নেতা মোঃ শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে কাউন্টারে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের সময় তার মাথার ভেতর থেকে গুলির আলামত উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে টার্গেট কিলিংয়ের আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেছেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান। এ ঘটনায় দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী বিশ্বাসপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পৌর বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
আরও পড়ুন
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাঃ কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, ময়নাতদন্তের সময় শাকেরের মাথার পেছনের আঘাত পরীক্ষা করে মাথার ভেতর থেকে গুলির আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পরে দেওয়া হবে।
ঘটনার বিষয়ে কাউন্টারের আরেক পরিচালক বিপুল কুমার দাস জানান, এক যাত্রীর বরাত দিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, কাউন্টারের কাছাকাছি একটি মোটরসাইকেল আসার পর গুলির মতো শব্দ শোনা যায়। পরে মোটরসাইকেলটি দ্রুত চলে যায় বলে ওই যাত্রীর স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে মোটরসাইকেলটির সঙ্গে শাকেরের মৃত্যুর ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
শাকেরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পৌর বাস টার্মিনালের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। পরে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে তার অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম ও ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, তারা শুরু থেকেই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন। ময়নাতদন্তে গুলির আলামত পাওয়ার তথ্য সামনে আসায় দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা।
মাগুরা সদর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ জুলফিকার তুষার বলেন, সাকের দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ মাগুরার মানুষ শোকাহত। তিনি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি বাস টার্মিনালকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন।
পরিবহন কাউন্টার মালিক সমিতির সেক্রেটারি মোহাম্মদ রানা মোল্লা বলেন, বাস টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ঘটনা পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং টার্মিনালে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি। পরিবহনসংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিরাও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও টার্মিনালের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, শাকেরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনার বিভিন্ন দিক ও আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি।
সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান বলেন, শাকেরের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে শাকের সামনের সারিতে ছিলেন। এইটা একটা—এইটা একটা টার্গেট কিলিং, এই ঘটনাটা কিন্তু টোটাল মাগুরার জন্য একটা ভিন্ন মেসেজ। আমরা জীবনে কখনোই মাগুরাতে কিন্তু এরকম টার্গেট কিলিং হয়নি। এর আগে কিছু কোয়াস্টায়ার হয়েছে, কিছু ভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটেছে, কিছু খারাপ লোকের অপমৃত্যু হয়েছে, কিন্তু এরকম একটা তরতাজা প্রাণ ১৭ বছর যে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিল।
ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে ঘটনার সব দিক নিশ্চিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
শাকেরের পরিবারে দুটি ছোট সন্তান রয়েছে এবং তার মা অসুস্থ উল্লেখ করে সংসদ সদস্য পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি পৌর বাস টার্মিনালে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
মোঃ কাসেমুর রহমান শ্রাবণ/এসএন
