কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন ‘ইসলামী মাহাজ’-এর প্রধান মোহাম্মদ রফিককে (৪০) পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এর আগে গত শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি ছাড়া পান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে শনিবার রাতে ক্যাম্প-৯-এর ব্লক-সি/৫ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ দৈনিক আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
৮ এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৯-এর ব্লক-সি/৫ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিজ শেডের সামনে দলীয় সদস্যদের নিয়ে গোপন বৈঠক করছিলেন ইসলামী মাহাজের প্রধান মোহাম্মদ রফিক। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রফিকসহ কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ রফিককে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রফিক নিজেকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন ইসলামী মাহাজের প্রধান বলে পরিচয় দিয়েছেন। তার দাবি, সংগঠনটির বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ এবং মিয়ানমারে প্রায় ৪০০ সদস্য রয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনটির সদস্যদের কাছে ৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, যেগুলো মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় রাখা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত সদস্যদের কাছে অস্ত্র থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসংগতিপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৮ এপিবিএনের ভাষ্য অনুযায়ী, রফিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক কেনাবেচা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপহরণের পর গুম করার মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর রফিককে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এপিবিএন নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইসলামী মাহাজের প্রধান মোহাম্মদ রফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্প এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৮ এপিবিএনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ এফডিএমএন সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
