নার্সিংহোমে চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় হারিয়েছেন সন্তানকে। অভিযোগ, সেই সন্তানহারা মাকে কখনও মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, আবার কখনও দেওয়া হচ্ছে কুপ্রস্তাব! এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যান্টি কোরাপশন বিভাগের লোক পরিচয় দিয়ে করা হচ্ছে উত্যক্ত। এমন লাগাতার ফোনে আরও অসহায় হয়ে পড়ছেন শিল্পা রায়।
সূত্রের খবর, ধৃতদের কাস্টডি ট্রায়াল করানোর জন্যও পুলিশ তথ্য প্রমাণ সমস্ত কিছুই জোগাড় করেছে। ফলে অভিযুক্তরা সহজে ছাড়া পাবে না জেনেই এখন এসব নতুন কায়দা শুরু করেছে। তবে কোনও কিছুতেই পিছু হঠতে নারাজ শিল্পা।
গত ২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমে ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে মৃত্যু হয় ৪ বছরের অরণ্য রায়ের। সেই ঘটনার তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অস্ত্রোপচারকারী শেখ সায়দুল ভুয়ো চিকিৎসক বলে জানতে পারে স্বাস্থ্য দপ্তর। ঘটনার তদন্তে নেমে আরও কয়েকজন ভুয়ো চিকিৎসকের হদিস সামনে আসে। শুধু তাই নয়, নার্সিংহোমের দুই কর্ণধার-সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। পরে পুলিশের জালে ধরা পড়ে ভুয়ো চিকিৎসক সায়দুল। পরে গ্রেপ্তার করা হয় ওই অস্ত্রোপচারের সময় থাকা অ্যানাস্থেসিস্ট বনোজকুমার দে-কেও।
অভিযোগ, একের পর এক ‘প্রভাবশালী’ গ্রেপ্তার হতেই নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে শিল্পাদেবীকে। ফোনে হুমকি দেওয়া হয় আগেও। সেই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ। কিন্তু এরপরেও কাটছে না বিড়ম্বনা। অভিযোগ, ওই নার্সিংহোমের ‘দালাল’ কৌশিক দত্তর স্ত্রী মৌ দত্ত ফোন করে তাঁকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে, তাঁর স্বামীর কোনও দোষ নেই এই ঘটনায়। শুধু তাই নয়, ফোনে শিল্পা রায়কে কুপ্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যান্টি কোরাপশন বিভাগের লোক পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই সব বিষয় পুরোটাই পুলিশকে জানিয়েছেন শিল্পা। পুলিশের জেলা সাইবার ক্রাইম থানার পক্ষ থেকে এই সমস্ত ফোনের বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও যারা উত্যক্ত করছে তাঁদের তথ্য জোগাড় করছে পুলিশ। অচেনা, অজানা নম্বরের ফোন না ধরতে পুলিশের পক্ষ থেকে শিল্পাকে অনুরোধ করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ধৃতদের কাস্টডি ট্রায়াল করানোর জন্যও পুলিশ তথ্য প্রমাণ সমস্ত কিছুই জোগাড় করেছে। ফলে অভিযুক্তরা সহজে ছাড়া পাবে না জেনেই এখন এসব নতুন কায়দা শুরু করেছে। তবে কোনও কিছুতেই পিছু হঠতে নারাজ শিল্পা। ছেলের মৃত্যুর ঘটনার সুবিচার না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়বেন না।
