Published : 13 Oct 2026, 09:52 AM
Updated : 13 Oct 2026, 09:52 AM
খেলোয়াড়ি জীবন খুব বেশি লম্বা হয়নি সারা দাম্বানেভানার। তবে আম্পায়ার হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন দ্রুতই। নিজের আলাদা জায়গাও করে নিতে পেরেছিলেন। কিন্তু সম্ভাবনাময় সেই পথচলা থেমে গেল স্রেফ ৩৬ বছর বয়সেই। হারারেতে সোমবার মারা গেছেন জিম্বাবুয়ের নারী শীর্ষ আম্পায়ারদের একজন সাবেক এই পেসার।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্চ মাস থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন দাম্বানেভানা।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলেছেন দাম্বানেভানা। ২০১১ বিশ্বকাপ বাছাইয়েও খেলেছেন। পরে খেলা ছেড়ে নাম লেখান তিনি আম্পায়ারিংয়ে। আইসিসির ডেভেলপমেন্ট প্যানেলে অর্ন্তভুক্ত হন ২০২২ সালে।
২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর তার সিনিয়র আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার শুরু হয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৪ সালের উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং গত বছর ভারত ও শ্রীলঙ্কায় উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও ইংল্যান্ডের ফাইনালে আম্পায়ারিং করেন দাম্বানেভানা এবং বিশ্বকাপের ফাইনালে আম্পায়ারিং করা প্রথম জিম্বাবুইয়ান নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
সামগ্রিকভাবে তিনি ৬৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৪২টি নারী টি-টোয়েন্টি, ১১টি নারী ওয়ানডে এবং ছেলেদের টি-টোয়েন্টি ১০টি। পাশাপাশি তিনি ঘরোয়া ক্রিকেট এবং বৈশ্বিক যুব টুর্নামেন্টেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চেয়ারম্যান তাভেংওয়া মুকুলানি বিবৃতিতে বলেন, জিম্বাবুয়ের নারীদের প্রেরণা হয়ে রয়ে যাবেন দেম্বানেভানা।
“প্রথমে ক্রিকেটার হিসেবে এবং পরে আম্পায়ার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জিম্বাবুয়ের সেবা করেছে সারা, যার যোগ্যতা তাকে বিশ্ব মঞ্চে স্থান করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে তাকে আম্পায়ারিং করতে দেখা আমাদের ক্রিকেট সম্প্রদায় এবং আমাদের দেশের জন্য ছিল এক পরম গর্বের মুহূর্ত। জিম্বাবুয়ের তরুণীদের সে দেখিয়েছে যে, খেলার সর্বোচ্চ স্তরে তাদেরও স্থান রয়েছে, এমনকি এমন সব ভূমিকাতেও যেখানে সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে সীমিত ছিল।
“তার সাফল্যের মাধ্যমে সে অন্যদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে এবং নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তার নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং অন্যদের বিকাশে সাহায্য করার ইচ্ছাকে স্মরণ করব আমরা। তার মৃত্যু আমাদের ক্রিকেট পরিবারে এক বেদনাদায়ক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া দৃষ্টান্ত যারা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তাদের অনুপ্রাণিত করতে থাকবে।”
