Published on
:
2 min read
এই সময়, পুরুলিয়া: ছিল পুরুলিয়া জেলা সদর হাসপাতাল। আগের তৃণমূল সরকারের আমলে তাকে পরিণত করা হয়েছে দেবেন মাহাতো সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। নিকাশির অব্যবস্থা ও অপরিচ্ছন্নতার জন্য সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে হাসপাতালের পুরাতন ক্যাম্পাস বা সদর ক্যাম্পাস। কিন্তু এই ক্যাম্পাসের নিকাশি ব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়ে কাঠগড়ায় খোদ স্বাস্থ্য ভবনই। সূত্রের খবর, এই ক্যাম্পাসের নিকাশির পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে হাসপাতাল থেকে পাঠানো ফাইল প্রায় আড়াই বছর ধরে পড়ে রয়েছে স্বাস্থ্যভবনে।
গত বুধবার রাতে ওই পুরাতন ক্যাম্পাসে গিয়ে হাসপাতাল চত্বরের নিকাশি ব্যবস্থা ও অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। সেখান থেকেই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে ফোন করে তিনি এই অব্যবস্থার কথা জানান। নোংরা পরিবেশের ছবি তুলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পাঠান সাংসদ। পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার–সহ সাত আধিকারিককে শো কজ় করে স্বাস্থ্যভবন। এখন এই অব্যবস্থার জন্য আঙুল উঠেছে খোদ স্বাস্থ্যভবনের দিকেই।
সূত্রের খবর, প্রায় আড়াই বছর আগে সদর ক্যাম্পাসের মধ্যে কিছু রাস্তা ও নতুন করে নিকাশি ব্যবস্থার পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছিল পূর্ত দপ্তর। পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ এই কাজের অর্থ বরাদ্দের জন্য সেই ফাইল স্বাস্থ্যভবনে পাঠিয়ে দেয়। তা প্রায় আড়াই বছর ধরে স্বাস্থ্যভবনেই পড়ে থাকে।
আরও জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালাবদলের পরে জেলার বিধায়করা পুরুলিয়ার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে উন্নত করার দাবি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার পরে সেই ফাইলের ফাঁস খোলা হয়। হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসের নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন করে ডিপিআর তৈরির জন্য স্বাস্থ্যভবন সম্প্রতি ফাইলটি পুনরায় পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠিয়েছে। কর্তৃপক্ষ পুজোর আগে ‘রিভাইস্ড এস্টিমেট’–এর জন্য তা পূর্ত দপ্তরে পাঠিয়েছে।
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই পুরাতন ক্যাম্পাসের নিকাশি সংক্রান্ত ফাইল স্বাস্থ্যভবনে পাঠানো হয়েছিল। নতুন করে ডিপিআর তৈরির জন্য সেই ফাইল ফের পূর্ত দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’ পূর্ত দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিক শুক্রবার বলেন, ‘আমরা এই ফাইলটি কিছু দিন আগে পেয়েছি। পুজোর পর অফিস খুললে নতুন ডিপিআর তৈরি করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’ তার পরে আবার তা যাবে স্বাস্থ্যভবনে।
উল্লেখ্য, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তরিত হওয়ার পরে বহিরঙ্গে রংয়ের পোঁচ পড়লেও সদর ক্যাম্পাসের নিকাশি ব্যবস্থা রয়ে গিয়েছে সেই মান্ধাতা আমলেই। গোটা ক্যাম্পাসের নিকাশি বা বর্জ্য জল বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সঠিক পরিকাঠামো গড়েই তোলা হয়নি। এই ক্যাম্পাসের বাইরে রয়েছে পুরসভার দু’টি সংকীর্ণ নালা, যা বর্জ্য জল নিকাশির জন্য যথেষ্ট নয়।
