দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৪২টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে সরকার ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। তবে কম দামে এসব চালের বরাদ্দপত্র কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র—এমন অভিযোগ উঠেছে। পূজারিদের দাবি, গোদাগাড়ীর মণ্ডপগুলো ৬০০ কেজি চালের বরাদ্দপত্রের বিপরীতে ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা করে পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গোদাগাড়ী পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অনিন্দ কুমার ভকত (পাপ্পু) বলেন, সরকারের দেওয়া বরাদ্দের চালের জন্য একটি প্রভাবশালী চক্র তাদের কাছ থেকে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা দরে বরাদ্দপত্র কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা কয়েকজন মিলে অন্য এক ডিলারের কাছে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা দরে ২১ হাজার টাকায় বরাদ্দপত্র বিক্রি করেন।
গোদাগাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি শ্রী শান্ত কুমার মজুমদার বলেন, একটি সিন্ডিকেট তার কাছ থেকে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা দরে বরাদ্দপত্র কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে তিনি এখনো তা বিক্রি করেননি। তার ভাষ্য, মন্দিরের বরাদ্দের চাল যেখানে বেশি দাম পাওয়া যাবে, সেখানেই বিক্রি করা হবে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গোদাগাড়ীতে ৪২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দপত্র নিয়ে মণ্ডপের প্রতিনিধিদের খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করার কথা।
পূজারিরা জানিয়েছেন, গোদাগাড়ী উপজেলা ও দুটি পৌরসভার ৪২টি মণ্ডপের চাল এক ব্যবসায়ী কিনে নিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, গোদাগাড়ীতে প্রতিটি মণ্ডপের ৬০০ কেজি চালের বরাদ্দপত্রের বিপরীতে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
কয়েকটি পূজা কমিটির প্রতিনিধিরা জানান, গত বছর প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে কেজিপ্রতি ৪৪ টাকা হিসেবে ২২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এ বছর চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হলেও দেওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা করে। এবার তারা চালের বরাদ্দপত্রের বিপরীতে কেজিপ্রতি ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা হিসেবে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা পেয়েছেন। চালের বাজারমূল্য সর্বনিম্ন কেজিপ্রতি ৫০ টাকা ধরলেও ৬০০ কেজি চালের দাম ৩০ হাজার টাকা হওয়ার কথা বলে দাবি করেছেন পূজারিরা।
গোদাগাড়ী উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রহিত কুমার বর্মন বলেন, আগামী বছর থেকে চালের পরিবর্তে নগদ টাকা দেওয়ার দাবি জানানো হবে। তিনি বলেন, একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে পূজারিরা কম দামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়া হলে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকত না।
পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে চালের সর্বনিম্ন দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা ধরলে ৬০০ কেজি চালের মূল্য দাঁড়ায় ৩০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে ২০ হাজার টাকার সঙ্গে চালের বাজারমূল্যের ব্যবধান ১০ হাজার টাকা।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কৃষ্ণ সরকার বলেন, তাদের মণ্ডপের জন্য যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে, তা যেখানে বেশি দাম পাওয়া যাবে, সেখানেই বিক্রি করবেন। কারণ, বরাদ্দের এই চাল পূজায় ব্যবহার করা হবে না। তাদের পূজার জন্য আরো ভালো মানের চিকন চাল প্রয়োজন।
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলাম বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলায় ৪২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চালের বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ বরাদ্দের চাল সংগ্রহ করে বিক্রি করতে পারেন, আবার নিজেদের কাছেও রাখতে পারেন। এটি তাদের সিদ্ধান্ত। চাল বিক্রির বিষয়টি তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন না। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ যেখানে ভালো দাম পাবেন, সেখানেই বিক্রি করবেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, সরকারের বরাদ্দের চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়েছে। এখন তারা চাল বিক্রি করবেন, নাকি নিজেদের কাছে রাখবেন, সেটি তাদের বিষয়।
এআরবি
