দীর্ঘ ১০ বছর পর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা উদ্যানটিতে রাখা হয়েছে লেক, ফোয়ারা, আধুনিক লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া, হাঁটার পথ ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়ন করা উদ্যানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশ শেষে উদ্যানটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, উদ্যানটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে মানুষ সেখানে হাঁটাচলা, অবসর যাপন ও পরিবার পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে পারেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাস্তবায়নে উদ্যান আধুনিকায়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। উদ্বোধন সামনে রেখে উদ্যানের পরিচর্যা, প্রবেশপথ পরিষ্কার ও চারপাশের ফুটপাত সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলতে দেখা গেছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বিপরীত পাশে উদ্যানের মূল প্রবেশপথ। ভেতরে রয়েছে সংস্কার করা লেক, ফোয়ারা, আধুনিক লাইব্রেরি, জিমনেশিয়াম ও ক্যাফেটেরিয়া। লাইব্রেরির আগে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলে পাওয়া যাবে প্রস্তাবিত জাদুঘরের জন্য নির্ধারিত জায়গা।
উদ্যানের মাঝখানে নির্মিত হয়েছে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। এর মাঝের স্টিলের পাতগুলোতে জুলাই শহীদদের নাম খোদাই করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র। সামনে রয়েছে প্রতীকী কবর এবং পাশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হাঁটার পথ। সংশ্লিষ্টদের আশা, স্মৃতিস্তম্ভটি নতুন প্রজন্মের কাছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরবে।
উদ্যানের সবুজ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নতুন করে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে পুরোনো লেকও। নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা, বিশ্রাম ও বিনোদনের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে পুরো এলাকা।
নগরভবন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত ওসমানী উদ্যান রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সবুজ পরিসরগুলোর একটি। দীর্ঘ বিরতির পর এটি খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নগরবাসীর জন্য নতুন করে উন্মুক্ত পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
