দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ‘ঘুমহীন প্রহরীর’ মতো সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি এবং তাদের মদদদাতারা নানাভাবে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট ও সামাজিক সম্প্রীতি লুণ্ঠন করার চক্রান্ত করছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ এস এম হান্নান শাহ্র ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে অতীতে যেমন চক্রান্ত হয়েছিল, আজও তা সক্রিয় রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। গতকালও অবসরপ্রাপ্ত দুইজন সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নানা নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে।
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, সামনে দুর্গাপূজা। এই সুযোগে পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করবে। তবে আমাদের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নজরদারি রাখবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে দেশজুড়ে লুটপাট, চাঁদাবাজি, মানুষের জায়গা-জমি ও সম্পদ দখলের যে অরাজক রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, বিএনপি সেই ধারায় বিশ্বাস করে না। বিএনপির রাজনীতি হলো শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসনের রাজনীতি। তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীই সরকারের অংশ, তাই আমাদের আচরণে যেন ফ্যাসিবাদের কোনো ছাপ না থাকে।
আরও পড়ুন
দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ১৭ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও বহু ত্যাগের পর অর্জিত এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পদ-পদবির লোভ ত্যাগ করতে হবে। রাতারাতি বিত্তশালী হওয়া কিংবা ঠিকাদারির লোভে বিএনপির এতদিনের ত্যাগ ও আদর্শ বিক্রি করা যাবে না।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ডিজেল আমদানিতে সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে সরকার নিষ্ঠার সঙ্গে রাত-দিন পরিশ্রম করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে কাজ করছে।
আরও পড়ুন
হান্নান শাহের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, হান্নান শাহ ছিলেন অন্যায়, অবিচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাহসের প্রতীক। ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময়ে এবং সেনাসদরে কুচক্রী মহলের চক্রান্তের মুখে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাল ধরেছিলেন। কারারুদ্ধ থাকা অবস্থাতেও তিনি গোপনীয় কোডে বার্তা পাঠিয়ে দলের আন্দোলন-সংগ্রাম সচল রাখার নির্দেশ দিতেন। তার এই অসীম সাহসিকতা ও ত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।
গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুল রহমান পেরার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং বর্তমান কমিটির সদস্যসচিব ও গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী (ব্যারিস্টার ইশরাক) প্রমুখ।
মো. আলী/অমিয়/
