পুজো উদ্বোধনে একমঞ্চে বাম-বিজেপি-তৃণমূলের নেতারা (প্রতীকী ছবি)ছবি: AI
Published on
:
1 min read
মেলালেন তিনি মেলালেন। দুর্গাপুজোর মঞ্চে একাকার হয়ে গেল বাম-ডান। কেউ কি ভেবেছিল বামপন্থী নেতার পুজো উদ্বোধন করবেন বিজেপির মন্ত্রী? শুক্রবার ষষ্ঠীতে সিউড়ির দেশবন্ধু পার্কের পুজোয় দেখা গেল সেই ছবি। সিপিএম নেতা দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের পুজোর উদ্বোধন করলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। আর পাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের পদত্যাগী কাউন্সিলার মণিদীপা মুখোপাধ্যায়।
দেশবন্ধু কলোনির পুজোর সর্বেসর্বা দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। দীর্ঘদিন জোনাল সম্পাদক থাকার পাশাপাশি সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি। সিউড়িতে এক সময়ে তাঁর দাপটে বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত। তবে গত বছরের পরে আর দলের সদস্যপদ পুনর্নবীকরণ করেননি দেবাশিস। এখন তাঁকে আর বামফ্রন্টের মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যায় না।
সেই দেবাশিসের পুজোর উদ্বোধন করলেন জগন্নাথ। দুর্গাপুজোয় রাজ্যের একাধিক জায়গায় সিপিএমের বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঠিক সেই সময়ে এমন দৃশ্য দেখে চমকে উঠেছেন অনেকেই। শুধু উদ্বোধন করাই নয়, সিপিএম নেতার ভূয়সী প্রশংসাও করলেন তিনি। জগন্নাথের কথায়, ‘সব সময়ে আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। ভিন্ন রাজনীতি করেন বলে দূরে ঠেলে দেননি।’ শুধু তাই নয়, বিধানসভা ভোটে সিউড়িতে তাঁর জয়ের পিছনেও দেবাশিসের অবদান রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সিউড়ির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার ছিলেন মণিদীপা মুখোপাধ্যায়। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। সেই মণিদীপাও হাজির ছিলেন পুজোয়। জগন্নাথের হাতে প্রদীপ ধরিয়ে দিলেন তিনি। বাম-তৃণমূলের পরিচিত মুখের সঙ্গে বিজেপি মন্ত্রীর এমন ঘনিষ্ঠতা ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে।
উদ্বোধনের সময়ে উদাত্ত কন্ঠে সংস্কৃত মন্ত্র পাঠ করেন দেবাশিস। পাশে দাঁড়িয়ে জগন্নাথ তখন মিটিমিটি হাসছেন। তৃণমূলের মণিদীপার মুখেও চওড়া হাসি। তিনটি ভিন্ন দলের নেতাকে এক মঞ্চে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা অবাক। কেউ বলছেন, ‘এটাই হলো বাঙালির দুর্গাপুজো।’ আবার কেউ কেউ ব্যঙ্গ করতেও ছাড়লেন না। কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন তুললেন, ‘এর পিছনে রাজনীতির অন্য কোনও সমীকরণ নেই তো?’
