ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পরীক্ষার উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় তিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে বিভাগে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত পিওন জাবেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার (২০২৫) ২১০৭ নম্বর কোর্সের দ্বিতীয় পরীক্ষকের উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কোর্সের প্রথম পরীক্ষকের নম্বর দ্বিতীয় পরীক্ষকের নম্বর হিসেবে গ্রহণ করে ফলাফল প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত পিওন জাবেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করছি না।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ২১০৭ নম্বর কোর্সের ৬০টির বেশি উত্তরপত্র হারিয়ে যায়।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, কোর্সের ইন্টারনাল পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলম গত ১১ মে উত্তরপত্র নেন এবং ২০ মে বিভাগে জমা দেন।
এদিকে বিভাগীয় কর্মচারী জাবেদ আলীর দাবি, তিনি উত্তরপত্রগুলো কোর্সের দ্বিতীয় পরীক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কাছে জমা দিয়েছিলেন।
অপরদিকে উপ-উপাচার্য দাবি, উত্তরপত্র তার কাছে আসেনি। এই নিয়ে সৃষ্টি হয় দায় চাপানোর পরিস্থিতি। বিভাগে একটা আভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয়। সর্বশেষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সুপারিশে পিওনের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ তিন সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
