নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির সময় সচিবালয়ে রাত কাটিয়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৬ জন। পরীক্ষা নেওয়ার এক দিন পর আজ শনিবার এই ফল প্রকাশ করা হলো।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডি এম আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ফল প্রকাশের তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পদটি ১১তম গ্রেডের; এর আগের নাম ছিল ক্রেডিট সুপারভাইজার। গতকাল শুক্রবার বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার তারিখ, সময় ও কেন্দ্র এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসব তথ্য পরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এবং টেলিটকের মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে কোনো প্রার্থী অনিয়ম বা অসাধু উপায় অবলম্বন করলে তাঁর প্রার্থিতা বা ফল বাতিল বলে গণ্য হবে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের প্রশ্নপত্র ফাঁস, সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর রাতভর তদারকি
এ নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ১০ অক্টোবর। ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। মূল প্রশ্নের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের মিল পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ততক্ষণে দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক প্রার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।
এরপর নতুন প্রশ্নপত্রে ১৬ অক্টোবর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থানও পরিবর্তন করা হয়। আগেরবার এ কাজ হয়েছিল মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে। এবার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। তবে আগের বিভাগীয় নিয়োগ কমিটি বহাল রেখেই পরীক্ষা নেওয়া হয়।
আবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার রাতভর সচিবালয়ে অবস্থান করেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নিজে উপস্থিত থেকে তদারক করেছেন বলে শুক্রবার জানান তিনি। এদিন বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ফল প্রকাশ পর্যন্ত তিনি তদারকি করবেন। পরদিনের মধ্যেই বাছাই পরীক্ষার ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
তদন্ত কমিটি ও সাতজন গ্রেপ্তার
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। প্রথমে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় হওয়া মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
