দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই নিজেদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি ভালো কাজ করার মূল বিষয় হলো ইচ্ছাশক্তি। প্রবল ইচ্ছা থাকলে একজন মানুষের মুখেও হাসি ফোটানো সম্ভব।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ফাউন্ডেশনটির প্রেসিডেন্ট।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমার এই প্রিয় সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে সেই প্রবল ইচ্ছা রয়েছে, যে ইচ্ছার মাধ্যমে একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। আসুন, আমাদের লক্ষ্য হোক- আগামী দিনে যত দিন আমরা সুস্থ ও সবল থাকব, তত দিন একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করব।’
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিপাদ্য ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে স্বচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জন্য কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করেছেন এবং সফলও হয়েছেন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব, মানুষের জন্য কাজ করতে পারব। এই মুহূর্তে আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, সেখান থেকে দেশের জন্য সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করা উচিত।’
ইচ্ছাশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি একটি কাজ করতে চাই- এই ইচ্ছাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি।’ পৃথিবীর অনেক বিত্তশালী মানুষ রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের স্বার্থে সম্পদ ও সামর্থ্য ব্যবহার করেন। কিন্তু তাঁরা যদি নিজেদের সম্পদের সামান্য অংশও সমাজ, মানুষ, জীবজন্তু ও প্রকৃতির কল্যাণে ব্যয় করেন, তাহলেও অনেকের জীবনে স্বস্তি ও শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
মানুষের পাশে আছে, থাকবে জেডআরএফ
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত, বেগম খালেদা জিয়ার আর্শিবাদে সিক্ত ও জনাব তারেক রহমানের উদ্যোগে অনুপ্রেরণায় স্থাপিত বাংলাদেশের মানবিকতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। গত ২৭ বছর মানবসেবার ছোট চারা গাছ থেকে আজ এই প্রতিষ্ঠান মহিরুহ হওয়ার পথে। মানুষের জন্য মানুষ, একটি চেষ্টা, একটি উদ্যোগ এই সংকল্পে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে সব সময়। বাংলাদেশের সর্বত্র প্রতি মানুষের পাশে মানুষের কাছে থাকছে, থাকবে ইনশাল্লাহ। আমি আশা করি, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে মানবিকতার উজ্জল উদাহরণ হয়ে থাকবে বিভিন্ন মানবসেবী কর্মকান্ডের মাধ্যমে।
১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন একটি স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংগঠন। আর্তমানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠানটি তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছে।
‘আইডিয়া ফেস্টে’ চ্যাম্পিয়ন শেকৃবির দল
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ‘একটি উদ্যোগ, একটি চেষ্টা- এনে দেবে স্বচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’। অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মেধা এবং উদ্ভাবনী ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও আগামীর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘আইডিয়া ফেস্ট’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ-১২। দলটির সদস্য মারুফ মোস্তফা মুনীম, মোহাম্মদেনুল ইসলাম ও মো. রিয়াদ মিয়া। প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী দলকে চেক প্রদান করেন এবং জুবাইদা রহমান তাদের হাতে সনদ তুলে দেন।
প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দল রানার্সআপ হয়েছে। এর মধ্যে গ্রুপ-১-এর দলনেতা আবদুল আশরাফিক চৌধুরী। দলের অন্য সদস্য জারির মাহমুদ ও এসএম ইয়াসিন সৌরভ। অপর দল গ্রুপ-২-ও রানার্সআপ হয়েছে। তবে গ্রুপ-২-এর সদস্যদের নাম দেওয়া তথ্যে উল্লেখ নেই।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সেমিফাইনালে মোট ১৮টি দল অংশ নেয়। বিচারকদের রায়ে সাতটি দল ফাইনাল পর্বে জায়গা করে নেয়। গত ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনার, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, ‘আইডিয়া ফেস্ট’-এর আহ্বায়ক সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকী এবং সমন্বয়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
