The Sangbad · সাধারণ
মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক নিয়ম কী?
১৮/১০/২০২৬

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে নিয়ে চলা আলোচনার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে কৌতুহল বেড়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে এই বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে।স্বেচ্ছায় পদত্যাগের প্রক্রিয়া: সংবিধানের ৫৮(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে লিখিত পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিতে হবে।গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মুহূর্ত থেকেই ওই মন্ত্রীর পদটি সাংবিধানিকভাবে শূন্য হয়ে যায়। এখানে রাষ্ট্রপতির কোনো ‘গ্রহণ’ বা ‘অনুমোদনের’ আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা নেই; তিনি কেবল প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে তা পেশ হওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন।এই একই নিয়ম প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ সংবিধানের ৫৮(৫) অনুচ্ছেদে ‘মন্ত্রী’ শব্দের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রক্রিয়াঅন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী যদি কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পদ শূন্য হয় না। সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারেন। কিন্তু মন্ত্রী সেই অনুরোধ না মানলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে ওই মন্ত্রীর নিয়োগ বাতিলের পরামর্শ দিতে পারেন।অর্থাৎ, মুখে বা বৈঠকে ‘পদত্যাগের নির্দেশ’ দেওয়া আর সাংবিধানিকভাবে পদটি শূন্য হওয়া—দুটি আলাদা বিষয়। আইনগতভাবে পদ শূন্য হতে হলে হয় মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র দিতে হবে, অথবা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতিকে নিয়োগ বাতিলের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিতে হবে।অন্যান্য ক্ষেত্রে পদ শূন্যএছাড়া সংবিধান অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী সংসদ সদস্য না থাকলে (তবে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম), অথবা প্রধানমন্ত্রী নিজে পদত্যাগ করলে বা পদ হারালে বাকি সব মন্ত্রীর পদ শূন্য বলে গণ্য হয় ।ইশরাকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতাইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫৮ অনুচ্ছেদের আওতাভুক্ত। তাই তার পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করতে হলে দুটির যেকোনো একটি ঘটতে হবে—হয় তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত পদত্যাগপত্র দেবেন, অথবা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি তার নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেবেন। শুধু মৌখিক নির্দেশ বা গুজবের ভিত্তিতে তার পদ শূন্য হবে না।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗