ফলোয়ারদের কাছে দীপাবলির মিষ্টি পাঠানোর আবেদন করেছিলেন এক সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। দিয়েছিলেন বাড়ির ঠিকানাও। তবে মিষ্টির বদলে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে আসতে শুরু করল টিভি, ফ্রিজ-সহ দামি দামি বৈদ্যুতিক সামগ্রী। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে ওই সব সামগ্রী পাঠানো বন্ধের আর্জি জানান অনুসারীদের কাছে।
এমন ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আনন্দবাজার অনলাইন জানায়, ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরে। মাদুরাইয়ের ওই ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারের নাম বীরমণি। সম্প্রতি অনলাইনে নিজের বাড়ির ঠিকানা শেয়ার করেছিলেন তিনি। আশায় ছিলেন, অনুসারীরা তাকে দীপাবলির মিষ্টি পাঠাবেন। কিন্তু, তার পরিবর্তে তিনি এমন সব দামি গৃহস্থালি পণ্যের ক্যাশ অন ডেলিভারি পেতে শুরু করেন, যা তাকে সমস্যায় ফেলে। চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন তিনি।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ডেলিভারিগুলি বীরমণি এবং তার বাড়িতে পার্সেল নিয়ে আসা ডেলিভারি কর্মী—উভয়ের জন্যই মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পার্সেলগুলোর মধ্যে ছিল টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন এবং অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রী। একটি টেলিভিশনের অর্ডারের মূল্য ছিল ১.৬৯ লক্ষ টাকা। এই ‘প্র্যাঙ্ক’ বা কৌতুক বন্ধ করার প্রচেষ্টা বার বার ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ভিডিও পোস্ট করে মানুষকে তাকে আর বিরক্ত না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বীরমণি।
ডেলিভারির সংখ্যা বাড়তে থাকায় বীরমণি ইনস্টাগ্রামে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছেন যে ওই প্র্যাঙ্ক কীভাবে তাকে প্রভাবিত করছে। যেহেতু অর্ডারগুলো ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতিতে করা হয়েছিল, তাই তিনি এমন সব পণ্যের মূল্য পরিশোধের জন্য চাপের মুখে পড়েছেন, যা তিনি কখনও অর্ডারই করেননি। এমনকি, ডেলিভারির জ্বালায় অস্থির হয়ে তিনি শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানিয়েছেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার যুবক।
ভিডিওতে বীরমণি বলেন, ‘আপনারা কেন এমনটা করছেন? ডেলিভারি কর্মীরা অনেক দূর থেকে আসছেন। দয়া করে এটা বন্ধ করুন। আধ ঘণ্টার মধ্যে ১৫টি অর্ডার এসেছে। এত সব কেনার মতো টাকা আমার কাছে নেই।’
অন্য একটি ভিডিওতে বীরমণি জানিয়েছেন, ডেলিভারি কর্মীদেরও অকারণে বিব্রত হতে হচ্ছে। তিনি জানান, যে সব অর্ডার তিনি নিজে করেননি, সেগুলির জন্য তাকে কথাও শুনতে হচ্ছে। তাই তিনি মানুষকে অনুরোধ করেছেন যেন তাকে আর এভাবে হয়রান না করা হয়।
তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি কেন এত কথা শুনব? ডেলিভারি কর্মীরা তো কেবল তাদের কাজ করছেন। অথচ অকারণে তাদের বিব্রত করছেন আপনারা। আমার কাছে কোনও টাকা-পয়সা নেই। আমি ভিক্ষা করে জীবন কাটাই। দয়া করে এ সব বন্ধ করুন।’
পরে অন্য একটি ভিডিওতে বীরমণি বলেন, ‘আমি শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। লাখ লাখ টাকার অর্ডার করার কারণে অনেকেই এখন আমার পিছু নিয়েছেন।’
