বিমানটি জাপানের ইজুমো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে ফুকুওকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে কাগোশিমা প্রশাসনিক এলাকার উদ্দেশে পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় বিমানের কার্পেটের নিচে সাপের উপস্থিতি নজরে আসে। এরপর যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ফ্লাইটটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাপানের ফুকুওকা বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী একটি বিমানের ভেতরে কার্পেটের নিচে সাপের সন্ধান পাওয়ায় ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এক মেকানিক প্রথম সাপটি দেখতে পান। পরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুঁজির পর একজন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ সাপটিকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং নির্ধারিত যাত্রা বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন তাঁরা।
উদ্ধার করা সাপটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার। তবে এটি বিষধর প্রজাতির নয় বলে জানা গেছে। কীভাবে সাপটি বিমানের ভেতরে প্রবেশ করল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা যায়, বিমানটি জাপানের ইজুমো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে ফুকুওকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে কাগোশিমা প্রশাসনিক এলাকার উদ্দেশে পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় বিমানের কার্পেটের নিচে সাপের উপস্থিতি নজরে আসে। এরপর যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ফ্লাইটটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে সাপটি কোনোভাবে বিমানের ভেতরে ঢুকে থাকতে পারে। তবে বিমানের কোন অংশ দিয়ে এটি প্রবেশ করেছে, কিংবা কখন বিমানের ভেতরে এসেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে জাপানের বিমান সংস্থা জাপান এয়ার কমিউটার। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের বিমানের যাত্রীদের বসার কক্ষে সাপ পাওয়ার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি বলে তাদের জানা আছে।
বিমান সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যাত্রীদের বসার জায়গায় সাপ প্রবেশের এমন ঘটনা তাদের জানা মতে এই প্রথম। এ ঘটনায় যাত্রীদের যে ভোগান্তি হয়েছে, সে জন্য তারা দুঃখিত।
বিমানের ভেতরে সাপ পাওয়ার ঘটনা বিশ্বে অবশ্য একেবারে নজিরবিহীন নয়। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে হাওয়াইগামী একটি ফ্লাইটে এক ব্যক্তি ভুলবশত সাপ নিয়ে উঠেছিলেন বলে জানা যায়।
এ ছাড়া ২০২২ সালে এয়ারএশিয়ার একটি ফ্লাইটের কেবিনের ভেতরে সাপ দেখতে পাওয়ার পর উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়েছিল। ওই ঘটনাও বিমানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
জাপানের ফুকুওকা বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবারও বিমানের অভ্যন্তরে অপ্রত্যাশিতভাবে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এনেছে। সাপটি কীভাবে বিমানে প্রবেশ করেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
