Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়: কলকাতা ও হাওড়া পুর নির্বাচনে তৃণমূলের কোনও নেতাকে টিকিট দেওয়ার জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবির একক শক্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন কোনও জোড়াফুল কাউন্সিলার অথবা নেতাকে পুরভোটে টিকিট দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শুক্রবার শমীক বলেন, ‘মানুষ জামা পরিবর্তন করার জন্য বিজেপিকে ভোট দেয়নি। ২০২১–এর ভোট থেকে শিক্ষা নিয়ে ২৬–এ দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার গড়েছে। কারও দয়ায় দল ক্ষমতায় আসেনি।’ ২০২১–এর ভোটে তৃণমূলের একদল নেতাকে প্রার্থী করে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি বিজেপি। দলের একাংশের মতে, সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন শমীক।
কলকাতা ও হাওড়ায় জোড়াফুলের প্রাক্তন কোনও কাউন্সিলার কিংবা নেতা পদ্ম–প্রার্থী হতে আর্জি জানিয়েছেন, এমন কোনও খবর তাঁর কাছে নেই বলেও সাফ জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, ‘এই ধরনের কোনও খবর আমার কাছে নেই। আমার কাছে না–থাকার অর্থ দলের কাছে নেই। পার্টিতে এই বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। কোনও আবেদনপত্র আসেনি।’
দুটি পুরসভার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে শুক্রবার শমীক, সুনীল বনসল, সুকান্ত মজুমদার, তাপস রায়, রীতেশ তেওয়ারি সহ বিজেপির একদল বিধায়ক দীর্ঘ বৈঠক করেন। এ বিষয়ে জ, শনিবারও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে আগামী ২৮ তারিখ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে মণ্ডল স্তর থেকে ওয়ার্ড ভিত্তিক সম্ভাব্য তিনজন প্রার্থীর নাম পাঠাতে হবে। এই নামের তালিকা সুকান্তর নেতৃত্বাধীন ইলেকশন কমিটির কাছে পৌঁছে যাওয়ার পরে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। বৈঠকে উপস্থিত এক নেতার কথায়, ‘নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে দলের কার্যকর্তাদের গুরুত্ব এবং যাঁর জয়ের সম্ভাবনা বেশি তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার কিংবা কোনও সাংসদের অনুগামী প্রাক্তন কাউন্সিলারদের টিকিট দেওয়ার প্রসঙ্গ বৈঠকে আলোচনাই হয়নি। কেন তৃণমূলের কোনও লোককে প্রার্থী করা হবে? শুধু বিজেপির কার্যকর্তাদের প্রার্থী করা হবে––এই অবস্থানের কোনও বদল হয়নি।’
আপাতত এনসিপিআই–র ব্যানারে থাকা সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর কলকাতায় এবং মালা রায় দক্ষিণ কলকাতায় একদল প্রাক্তন জোড়াফুল কাউন্সিলারকে পদ্ম টিকিট অথবা বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী করতে চাইছেন বলে মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এ দিন ফেসবুকে দাবি করেছেন। বিজেপি নাকি এমন চারজনকে দলে নিতে রাজি হয়েছে বলেও কুণালের দাবি। যদিও এ দিনের বৈঠকে এই বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য হয়নি বলে বিজেপি সূত্রের খবর। বিভিন্ন মহল থেকে ফিলার এলেও পুরভোট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা সুকান্তর সাফ কথা, ‘সব ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের দিকে তাকাতে নেই। কিছু ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ফাঁদ হয়।’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘বিজেপির সেই কার্যকর্তারা গুরুত্ব পাবেন যাঁদের ইমেজ ভালো। আদর্শগত ভাবে বিজেপির কর্মী। জয়ী হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটাও দেখা হবে। তরুণ প্রজন্মকে বেশি চাইব।’
ছ’মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন কলকাতা পুরসভার ১৪৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০৪ টিতে বিজেপি লিড নিয়েছিল। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে ফাটল চওড়া হয়েছে। বাম এবং কংগ্রেস কতটা জমি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে তাও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে দুই পুরসভায় হইহই করে পদ্মফুল উড়বে বলে বিজেপি নেতৃত্বের পর্যবেক্ষণ। এ দিনের বৈঠকের পরে শমীক বলেন, ‘দুটি জায়গায় বিজেপি কমফর্টেবল মেজরিটি নিয়ে পুর বোর্ড তৈরি করবে। আপনারা ভালো মেয়র পাবেন। দেখতে সুন্দর হবে কি না জানি না, কিন্তু ভালো হবে। কাজের মেয়র পাবেন।’ যদিও মেয়র–মুখ নিয়ে এ দিনের বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলে সভায় উপস্থিত একাধিক নেতার বক্তব্য।