রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাকির হোসেনকে মব সৃষ্টি করে শারীরিক নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য ও ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্বর এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মবের ঘটনা বর্ণনা করেন নির্যাতনের শিকার ইউপি জাকির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, গত ২৫শে সেপ্টেম্বর শুক্রবার কালুখালীর আখরজানী ঠাকুর বিল এলাকায় আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আমি অংশ নিতে যাই।অনুষ্ঠান চলাকালে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদসহ তার মব সন্ত্রাসীরা আমাকে মঞ্চের পেছনে ডেকে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ তুলে জোরপূর্বক একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে আমাকে এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলা হয়। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে আমাকে মারধর করে এবং মানসিক ভাবে নির্যাতন করা করে। এর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে চোর বানিয়ে আমার মানসম্মানহানি করে তারা।
একপর্যায়ে প্রাণভয়ে আমার কাছে থাকা নগদ ৬৭ হাজার টাকা ও আনুমানিক ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের ঘড়ি দিয়ে দিতে বাধ্য হই। এ সময় আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ না করলে এবং ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
আমার কাছ থেকে চাঁদার টাকা না পেয়ে তারা পরবর্তী সময়ে কালুখালী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় আসামি করে ২৬ সেপ্টেম্বর জিআর মামলা নম্বর ১১৬/২৬-এ দণ্ডবিধির ৩৮৯ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় আমাকে তিন দিনের রিমান্ড শুনানি চাওয়া হয়।মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম আদালতে আমাকে নির্দোষ হিসেবে দাবি করে আমার জামিনের জন্য আবেদন করে। তখন আদালতের বিচারক বাদীর কথা শুনে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় বাদিকে কারাগারে পাঠায়, আর আমাকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে জামিনে মুক্তি দেই।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ি আবুল কালাম আজাদ ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। আমাকে নির্যাতন করে উল্টো মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার দাবি করছি।
ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমাকে নৌকাবাইচের অনুষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আটকে রেখে মারধর, ৬৭ হাজার টাকা ও প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের ঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়া এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে এ ঘটনায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ি আজাদকে এক নম্বর আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২২ জনকে আসামি করে কালুখালী আমলি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেছি।
