Published on
:
2 min read
জনপ্রিয় সঞ্চালক-অভিনেতা Shekhar Suman সম্প্রতি তাঁর জীবনের একটি মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন। ১৯৯৫ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে এক অত্যন্ত বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায় তাঁর বড় ছেলে আয়ুষ। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা স্মরণ করেছেন ছেলের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো। সেই অসহনীয় দিনগুলোর কথা, যখন শত চেষ্টা করেও চিকিৎসকরা শেখর ও তাঁর স্ত্রী অলকা সুমনের পুত্র আয়ুষকে বাঁচাতে পারেননি। ‘এন্ডোমায়োকার্ডিয়াল ফাইব্রোসিস’ নামের এক মারাত্মক হৃদরোগে আয়ুষের জীবনদীপ নিভে যায়। কিন্তু এই রোগটি আসলে কী এবং কেন এটি এত বিপজ্জনক?
এন্ডোমায়োকার্ডিয়াল ফাইব্রোসিস কী?
এন্ডোমায়োকার্ডিয়াল ফাইব্রোসিস হলো এক ধরনের রেস্ট্রিক্টিভ কার্ডিয়োমায়োপ্যাথি। এই রোগে হৃদপিণ্ডের ভিতরের আস্তরণ বা এন্ডোকার্ডিয়ামে অস্বাভাবিক ফাইব্রাস বা জমতে শুরু করে। এর ফলে হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ বা ভেন্ট্রিকেলগুলো শক্ত হয়ে যায়, যার ফলে হৃদপিণ্ড স্বাভাবিক ভাবে প্রসারিত হতে পারে না এবং ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে ব্যর্থ হয়। এই রোগটি সাধারণত এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার মতো ক্রান্তীয় ও উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। যদিও এর সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে চিকিৎসকদের মতে এর নেপথ্য়ে ইনফেকশন, পুষ্টির অভাব বা অস্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করতে পারে।
এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?
রোগটি কোন প্রকোষ্ঠকে আক্রান্ত করছে এবং তা কতদূর ছড়িয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণগুলো খুব স্পষ্ট না হওয়ায় এটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সামান্য শারীরিক পরিশ্রমে বা শুয়ে থাকার সময় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে না পারায় সবসময় দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব করা। পা, গোড়ালি কিংবা পেটে জল জমে ফুলে যাওয়া। বুক ধড়ফড় করা বা হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে আলাদা হওয়া। রোগটি বাড়লে তা হার্ট ফেইলিউর বা রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি
চিকিৎসকরা সাধারণত ইকোকার্ডিয়োগ্রাম বা আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের গঠন ও পাম্প করার ক্ষমতা পরীক্ষা করেন। এ ছাড়া কার্ডিয়্যাক MRI (Cardiac MRI)-এর সাহায্যে ফাইব্রোসিসের তীব্রতা মাপা হয়।
ফাইব্রোসিস পুরোপুরি সারিয়ে তোলার মতো কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। মূলত হার্ট ফেলিওরের লক্ষণ কমানো, শরীরে জল জমা রোধ করা এবং রক্তের জমাট বাঁধা আটকানোর উপর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে উন্নত পর্যায়ে সার্জারি করে ফাইব্রাস টিস্যু অপসারণ বা ভালভ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।
রোগটি বিরল এবং এর জটিলতা অত্যন্ত মারাত্মক। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।