ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেছেন হাজারো বিরোধী সমর্থক। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবারের এ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয় মার্চ ফর ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা।মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। এর আগে সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ করতে গিয়ে হাজারো মানুষ আটক হন। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করেন। চিঠিটি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে পাঠানো হয়েছিল। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কথিত আচরণ নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে আদালতের বিবেচনাধীন। তাই এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না। তবে আইন অনুযায়ী, এ ধরনের আবেদন যত দ্রুত সম্ভব শুনানির আশ্বাস দেন তিনি।রাহুল গান্ধী সব বিরোধী দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবাইকে মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দিল্লির বারাখাম্বা রোড থেকে বিরোধী নেতাদের বহনকারী একটি বাস সুপ্রিম কোর্টের দিকে রওনা হয়। পথে মান্ডি হাউস এলাকায় বাসটি থামলে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন নেতা বাসের ছাদে উঠে সমবেত সমর্থকদের অভিবাদন জানান। এ সময় সমর্থকেরা পতাকা হাতে স্লোগান দেন এবং ঢাকঢোল বাজিয়ে তাঁদের সমর্থন জানান।
এক বিক্ষোভকারী এএফপিকে বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হলে মানুষের আর কী অবশিষ্ট থাকে? আরেক বিক্ষোভকারী মিছিলকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার লড়াই বলে বর্ণনা করেন।
কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়েও তা পাননি আয়োজকেরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে পুলিশ একাধিক আবেদন নাকচ করে। সপ্তাহান্তে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে হাজারো মানুষকে আটক করা হয়। সংগঠনটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। এর আগে গ্রীষ্মে তাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন বলে সংগঠনটি দাবি করে।
শনিবার জন্তর মন্তরে মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে দিল্লি কর্তৃপক্ষের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সেখানে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ট্রেন বাতিল, বহু মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিকল্প হিসেবে আরও তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে অনুমতি সাপেক্ষে কর্মসূচি পালন করা যাবে।
সপ্তাহান্তের বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজ থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনটির সহসমন্বয়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়। এক দিন পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে দাস ও রানকা জানান, তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বিক্ষোভ চলাকালে সাংবাদিকসহ হাজারো মানুষকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিবিসির ধারণ করা একটি ভিডিওতে বাসের ভেতরে এক পুলিশ সদস্যকে আটক এক বিক্ষোভকারীকে চড় মারতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও দিল্লি পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স অন্তত ১৬ জন ভারতীয় সাংবাদিককে আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করা অপরাধ নয়, বরং সাংবাদিকদের দায়িত্ব।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে আসা তরুণদের মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন বিরোধী দল ও সিজেপির বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির ইঙ্গিতে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে কোন বিদেশি শক্তির কথা তিনি বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
