প্রথম ঘণ্টাতেই ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে পড়ে এলএএসকে, পরে পাল্টা জবাব দিলেও পয়েন্ট পাওয়ার আশা জাগাতে পারেনি তারা।
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বিধ্বস্ত হয়ে যেন তেতে ছিল লিভারপুল। তাদের সেই আগুনে পুড়ল এলএএসকে। ক্লাবের হয়ে মৌসুমে প্রথম জালের দেখা পাওয়ার দিনে হ্যাটট্রিক করলেন বাহডলে বাহকোলা। অস্ট্রিয়ার ক্লাবটিকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ের ধারায় থাকল আন্দোনি ইরাওলার দল।
ঘরের মাঠে বুধবার প্রথম ঘণ্টায় পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে থাকা এলএএসকে পরে বেশ ভালোই পাল্টা জবাব দেয়। তাতে ফল নিয়ে তেমন কোনো নাটকীয় না জাগলেও, মাঠের গোল উৎসব বাড়তি রং ছড়ায়।
শেষ পর্যন্ত ৬-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। বিজয়ীদের অন্য তিন গোলদাতা রোনাল্দ আরাউহো, ইয়েরেমি ফ্রিমপং ও লুইস কুমাস।
আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে আসর শুরু করা লিভারপুল দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দুইয়ে আছে। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা।
টেবিলের পরের দুটি স্থানের দল স্পোর্তিং ও আর্সেনালের পয়েন্টও ৬।
ম্যাচের শুরু থেকে পজেশন রাখায় ও আক্রমণে একচেটিয়া চাপ ধরে রেখে লিভারপুল। দ্রুত গোলও পেয়ে যায় তারা। ২৩তম মিনিটে কস্তাস সিমিকাসের কর্নারে হেডে দলকে এগিয়ে নেন আরাউহো।
দুই মিনিটের মধ্যে তাদের আনন্দ বেড়ে হয় দ্বিগুণ। ডান দিক থেকে বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে, দুইজনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যান তরুণ উইঙ্গার রিও নুগোমোহা। তখন লুইস কুমাস বল ধরে ছোট করে বাড়ান বাহকোলাকে এবং জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
৩১তম মিনিটে ২১ বছর বয়সি কুমাসও জালে বল জড়ান, যদিও নিজেই অফসাইডে ছিলেন ওয়েলসের এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর আবারও গোল পাওয়ার কাছাকাছি যায় লিভারপুল; কিন্তু রায়ান খ্রাফেনবের্খের কোনাকুনি শট দূরের পোস্টে বাধা পায়।
তৃতীয় গোলটি পেতে বেশিক্ষণ অবশ্য অপেক্ষা করতে হয়নি সফরকারীদের। ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের পাস ডি-বক্সে প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বাহকোলা।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা একরকম শেষ করে দেন ফ্রিমপং। বাঁ দিকের বাইলাইন থেকে সিমিকাসের ক্রসে জোরাল হেডে স্কোরলাইন ৪-০ করেন ডাচ ডিফেন্ডার।
৬৩তম মিনিটে প্রথমবার হাসির উপলক্ষ পায় এলএএসকে। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে পেয়েই জোরাল শটে ব্যবধান কমান রবের্ত লুবিসিচ।
এর তিন মিনিট পরেই, ডান দিক থেকে ফ্রিমপংয়ের দূরের পোস্টে বাড়ানো বল গোলমুখে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বাহকোলা।
আগে দুইবার জালে বল পাঠিয়েও গোল না পাওয়া কুমাস অবশেষে সফল হন ৭২তম মিনিটে। ফ্রিমপংয়ের পাস পেয়ে গোলটি করেন তিনি।
পরের পাঁচ মিনিটে জোড়া গোলের আলো ছড়ান ফ্লেকের, তাতে স্বাগতিক সমর্থকরা কিছুটা উল্লাসের উপলক্ষ পায়। ডাইভিং হেডে প্রথমবার জালে বল পাঠানোর পর, জোরাল শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন অস্ট্রিয়ার এই উইঙ্গার।
দুই ম্যাচে দুটিতেই হারল এলএএসকে।
