শরতের পড়ন্ত বিকেলে উৎসব মুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার গুমানি নদীতে প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানসি নৌকা বাইচ-২০২৬ এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়ীয়ায় গুমানি নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন মাঝি-মাল্লাদের কণ্ঠে ভেসে আসে জারি-সারি ও লোকগানের সুর। সেই সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো। কখনো একটি নৌকা এগিয়ে যায়, আবার মুহূর্তেই পেছন থেকে অন্য নৌকা এসে টক্কর দেয়। আর এতেই দর্শকদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গুমানি নদীর দুই পাড়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। নৌকা বাইচে চূড়ান্ত ধাপের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সেরা নৌকাকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় এক লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৬০ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার ৪০ হাজার টাকা ও চতুর্থ পুরস্কার ছিল ২০ হাজার টাকা।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন রাজুর সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক সরদার জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার একটি ঐতিহ্য। নৌকা বাইচ দেখতে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি সবাইকে মুগ্ধ করেছে। আবহমান গ্রাম-বাংলার কৃষ্টি ধরে রাখতে এভাবে প্রতিবছরই নৌকা বাইচের আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।
এসময় ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুর মোজাহিদ স্বপন, পাবনার ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল হাকিম খান, চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, ফরিদপুর উপজেলার হাদল ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান শাহ্ আলম, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ছাইদুল ইসলাম বুরুজ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আখিরুজ্জামান মাসুমসহ বিএনপি এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া নৌকা বাইচ আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন হবে এবং নতুন প্রজন্মের হাত ধরে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় টিকে যুগ যুগ থাকবে নৌকা বাইচের ঐতিহ্য।
