রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে দুই রুমমেটের বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী শাহাবুর হোসেন জয়কে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে প্রতিটি ক্যাম্পাস থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদলকে বিতাড়িত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাজশাহী কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
একই সঙ্গে তুমুল আন্দোলনেরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নাম জড়ানোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংগঠনটির নেতারা বলছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসের বি ব্লকের ১০৬ নম্বর কক্ষে দুই রুমমেটের বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে।
এতে গুরুতর আহত ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী জয়কে রক্তবমি ও নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর কলেজ প্রশাসনের কাছে মৌখিক প্রতিবাদ জানায় রাজশাহী কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির শাখা সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, দুই রুমমেটের বিরোধকে কেন্দ্র করে সাধারণ একজন শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ছাত্রাবাসের আসন বাতিল এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হোস্টেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু বিচার না হলে প্রতিটি ক্যাম্পাস থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদলকে বিতাড়িত করা হবে। এ দাবিতে তুমুল আন্দোলনও গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
তবে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুই রুমমেটের নিজস্ব বিরোধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলের নাম জড়ানো হচ্ছে। একটি পক্ষ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ চক্রান্ত করছে। তবে তারাও চান, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জয় অভিযোগ করেন, কক্ষে ওঠার পর থেকেই রুমমেট ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফজলে রাব্বী ওহীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রাব্বী তার মাথায় আঘাত করেন। পরে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হলে অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের শান্ত করেন।
জয়ের দাবি, এর প্রায় ৩৫ মিনিট পর প্রীতম সেখানে এসে তার ওপর চড়াও হন। পরে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ইয়াজ উদ্দিন জানান, ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের সহায়তায় জয়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, প্রথমে দুই রুমমেটের বিরোধ থাকলেও পরে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
অভিযোগের বিষয়ে ফজলে রাব্বী ওহী বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলব না।
রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মো. ইউনুছ আলী বলেন, খবর পেয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কলেজের নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুসলিম ছাত্রাবাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা নাসিরুল আজম বলেন, দুই রুমমেটের ঝগড়ার মধ্যে তৃতীয় পক্ষ এসে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
