ঢাকা: বিশ্বের বায়ুদূষণকারী নগরীগুলোর মধ্যে রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএআইআর-এর আজকের সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত বাতাসের শীর্ষ শহরের তালিকায় ঢাকা ৯ম স্থানে রয়েছে। ঢাকার বাতাসের মান সূচক (একিউআই) ১৫৯ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই সূচক থাকা মানেই তা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকার বাতাস এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে শ্বাস নেওয়া মানেই বিষাক্ত কণা শরীরে প্রবেশ করানো।
ঢাকার এই তীব্র বায়ুদূষণের পেছনে একাধিক কারণ জড়িত। শহরের চারপাশে গড়ে ওঠা ইটের ভাটা, বেপরোয়া নির্মাণকাজ, রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত ধুলাবালি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ধোঁয়া বায়ুদূষণকে আশঙ্কাজনক হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং পর্যাপ্ত সবুজ বা গাছপালা না থাকায় দূষিত কণাগুলো বাতাসেই ভেসে থাকে। বিশেষ করে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার বায়ুমান এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করে যে, পুরো শহর ঘন ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকার কারণে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদে এই বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস এবং অন্যান্য ফুসফুসজনিত ব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বায়ুদূষণজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। নির্মাণকাজ চলাকালে ধুলাবালি রোধে ঢাকনা দেওয়া ও নিয়মিত পানি ছেটানো নিশ্চিত করতে হবে। পুরানো ও ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং শহরের চারপাশে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ইটের ভাটা নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি ঢাকাকে পুনরায় সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানো এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বায়ুদূষণ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঢাকার ভবিষ্যৎ ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।
