আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে: মালয়েশিয়ার কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিলে (ইপিএফ) বিদেশি কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার ২ শতাংশ চাঁদা বাধ্যতামূলক রাখার পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। ইতোমধ্যে ১৭ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি বিদেশি কর্মীর জন্য এ চাঁদা দেওয়া শুরু করেছেন নিয়োগকর্তারা। সরকার বলছে, অভিবাসী শ্রমিকদের অবসরকালীন সঞ্চয় ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এ চাঁদার হার তুলনামূলকভাবে কম। দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিদেশি কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, জাতীয়তা নির্বিশেষে মালয়েশিয়ায় কর্মরত সব শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অভিবাসী কর্মীদের জন্য মৌলিক অবসরকালীন সঞ্চয় গড়ে তোলা এবং জাতীয় অবসরকালীন সঞ্চয়ব্যবস্থায় ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ নীতির উদ্দেশ্য।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ১২৯টি নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৬০ জন বিদেশি কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক ইপিএফ চাঁদা দেওয়া শুরু করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৭ হাজার ১৯৪টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই), যা মোট প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৬ শতাংশ।
মালয়েশিয়ার সংজ্ঞা অনুযায়ী, উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ২০০ জন কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এবং সেবাসহ অন্যান্য খাতে ৭৫ জন বা তার কম কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত।
আনোয়ারের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিপুলসংখ্যক নিয়োগকর্তার চাঁদা দেওয়া শুরু করার ঘটনা এ নীতি বাস্তবায়নে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নীতির উন্নয়নে বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব বিবেচনা করবে সরকার। পাশাপাশি এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। সংসদে পিপলস জাস্টিস পার্টির (পিকেআর) তেব্রাউ আসনের সংসদ সদস্য জিমি পুয়াহ বিদেশি কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ইপিএফ চাঁদার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি জানিয়েছিলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ কমাতে বিদেশি কর্মীদের ইপিএফ চাঁদার বিষয়টি পর্যালোচনায় সরকার সম্মত হয়েছে। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে আনোয়ার ইব্রাহিম ২ শতাংশ চাঁদার হারকে তুলনামূলক কম উল্লেখ করে এ ব্যবস্থা চালু রাখার পক্ষে সরকারের যুক্তি তুলে ধরেছেন। এতে একদিকে বিদেশি কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য, অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ দুই বিষয়ই আলোচনায় রয়েছে।
