শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন
নবীগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে জখম ॥ আদালতে মামলা
- আপডেট সময় শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
- ৯ বার পড়া হয়েছে
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে কওছর মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম, লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর এবং গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। হামলায় তাঁর মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং চিকিৎসককে প্রায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন কওছর মিয়া।
মামলার এজাহারে জানা যায়-গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে নবীগঞ্জ পৌরসভার নোয়াপাড়া কবরস্থানের পাশের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী কওছর মিয়া নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি নবীগঞ্জ পৌরসভার ৮ জন বাসিন্দাকে আসামি করে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল আদালত নং-৫-এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর আসামিরা বাদীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় তিনি নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর আসামিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে দাবি করেছেন বাদী।
এ ছাড়া পূর্বে বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি সি.আর. মামলায় কয়েকজন আসামির কারাভোগ এবং ওই মামলায় দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, এসব ঘটনার জেরে গত ৯ অক্টোবর বিকেলে কওছর মিয়া নবীগঞ্জ পৌর এলাকার নোয়াপাড়া কবরস্থানের পাশের সড়কে পৌঁছালে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা, হাতুড়ি ও লোহার পাইপসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।
আরজিতে আরও বলা হয়, এক আসামির রামদার কোপে কওছর মিয়ার মাথায় গুরুতর জখম হয়। অন্য আসামিরা হাতুড়ি ও লোহার পাইপ দিয়ে তাঁর পিঠ, পাঁজর, কোমর, উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই নারী আসামির বিরুদ্ধে হাত-পা চেপে ধরা, কামড় দিয়ে জখম করা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীর দাবি, গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় এক আসামি তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়ে পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য এক আসামির বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে দাবি করেছেন বাদী। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর মাথার ক্ষতস্থানে প্রায় ১৪টি সেলাই দেওয়া হয় বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী আরও দাবি করেন, চিকিৎসা শেষে ১২ অক্টোবর বাড়ি ফিরে তিনি নবীগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
আরো নিউজ
© All rights reserved © 2013-2026 HabiganjExpress.Com


