খুলনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তায় জারি করা সতর্কতামূলক নির্দেশনা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপারের দপ্তর জানায়, সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই জারি করা হয়েছিল সতর্কতামূলক নির্দেশনাটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আদেশটি শুধু খুলনা জেলা পুলিশের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। এটি কোনোভাবেই খুলনা জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা কিংবা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশে জারি করা হয়নি।
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের বরাত দিয়ে ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দেশনাটি প্রকাশের বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে এ ঘটনায় কারও দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, খুলনা জেলা পুলিশ দৃঢ় মনোবল ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত করবে না। এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলম দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশায় খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন। পথে কলেজিয়েট স্কুলের কাছে তিনজন ছিনতাইকারী তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার মানিব্যাগ ও দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে এক ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে তার দুই হাত গুরুতর জখম হয়।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালন শেষে, বিশেষ করে গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক করতে গত শুক্রবার রাতে পুলিশ সুপার, খুলনার স্বাক্ষরে একটি আন্তবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়।
