ভারতের মণিপুরে এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন মাথা পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে নাগা সম্প্রদায়ের একটি সংগঠন। এর মধ্যে মাথাটি ফেরত না দেওয়া হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে রাজ্যটির তিন জেলায় পৃথক গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।
গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, কাংপোকপি জেলার মাকুই আশাং গ্রামে শনিবার সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ৫২ বছর বয়সী অজিনবৌ আর নিহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার মাথাবিহীন মরদেহ রোববার রাতে ইম্ফলের জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়।
জয়েন্ট ট্রাইবস কাউন্সিল মণিপুর জানিয়েছে, অজিনবৌয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। পরিবারের কাছে মাথাটি ফিরিয়ে দিয়ে সম্মানজনক দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার জন্য দায়ী করে। তাদের দাবি, এ হত্যাকাণ্ড মানবতার প্রতি চরম অবমাননা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মাথাটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, অন্যথায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছদ্মবেশী পোশাক পরা সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে অজিনবৌয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তিন জেলায় সংঘর্ষ, নিহত ৯
মণিপুরে নতুন করে সহিংসতার সূত্রপাত হয় শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে। কুকি-অধ্যুষিত ওই গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের গুলিতে পাঁচ সন্তানের ২২ বছর বয়সী এক মা নিহত হন। গ্রামটি নাগা-অধ্যুষিত কামজং জেলার মধ্যে অবস্থিত। এ হত্যাকাণ্ডের পর কুকি ও নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়, যা শনিবার সকাল পর্যন্ত চলে।
এরপর কামজং, উখরুল ও কাংপোকপি জেলায় পৃথক গোলাগুলির ঘটনায় শুক্রবার ও শনিবার অন্তত ৯ জন নিহত হন।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং হত্যাকাণ্ডগুলোর নিন্দা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতায় ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বহু বাড়িঘর।
এর আগে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এ ঘটনায় এখনো ৪৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।