বড়পর্দায় এ বার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর জীবন নিয়ে ছবি তৈরি করছেন মধুর ভান্ডারকর। বায়োপিকের নামও ঠিক হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। নাম- ‘শ্যামা— দ্য মিসিং চ্যাপ্টার’। বলিউডের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের গল্পে বার বার ছাপ রেখেছেন পরিচালক মধুর ভান্ডারকর। এ বার তাঁর নতুন ছবির বিষয় ভারতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ‘দ্য ওয়াইভ্স অফ বলিউড’ ছবির কাজ শেষ করার পরেই এই নতুন কাজে হাত দেবেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক। প্রযোজক আদিত্য কুমার হালওয়াসিয়ার প্রযোজনায় তৈরি হবে ছবিটি। যৌথ ভাবে প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে ভান্ডারকর এন্টারটেনমেন্ট এবং এ কেএইচ ভেঞ্চার্স।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া থেকে শুরু করে স্বাধীন ভারতের প্রথম মন্ত্রিসভায় যোগদান— শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উঠে আসবে ছবিতে, এমনই দাবি নির্মাতাদের। জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভার সঙ্গে মতাদর্শগত সংঘাত, মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ এবং ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার ঘটনাও ছবির অন্যতম বিষয় বলে জানা গিয়েছে।
ছবির নাম- ‘শ্যামা— দ্য মিসিং চ্যাপ্টার’। ছবি: সংগৃহীত।
পাশাপাশি, ১৯৫৩ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে পারমিট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলন এবং বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতিও তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে রাজনৈতিক থ্রিলারের টানটান আবহ মিলিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক আদর্শকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চান পরিচালক।
পরিচালক মধুরের কথায়, ‘‘এই বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি করা মানেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া। এবং অত্যন্ত কঠিন একটি দায়িত্ব। সততা, সংবেদনশীলতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইতিহাসের এই অধ্যায়কে পর্দায় তুলে ধরতে চাই। ইতিহাসের পরিচিত ঘটনাগুলির বাইরে, এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিশ্বাস, সিদ্ধান্ত এবং সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি তুলে ধরব।’’
প্রযোজক আদিত্য কুমার হালওয়াসিয়ার কথায়,‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন সাহস, আদর্শ এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দেয়।’’ এই ছবির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ভারতের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
