বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যতালিকায় ভাতের উপস্থিতি প্রায় প্রতিদিনই। সকাল, দুপুর কিংবা রাত—অনেকেই তিন বেলাই ভাত খেতে অভ্যস্ত। তবে নিয়মিত তিন বেলা ভাত খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা ভালো, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে তিনবার ভাত খেলেই শরীরের ক্ষতি হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং ভাতের পরিমাণ, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে।
বেশি ভাত খেলে বাড়তে পারে ওজন
ভাত মূলত শর্করাজাতীয় খাবার, যা শরীরকে শক্তি জোগায়। তবে প্রতিবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাত খেলে এবং সেই অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ না হলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রম কম হলে এবং খাবারে শাকসবজি ও প্রোটিনের তুলনায় ভাতের পরিমাণ বেশি থাকলে এ ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব
সাদা চালের ভাতে আঁশ তুলনামূলক কম থাকে। শরীর এটি দ্রুত হজম করে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করতে পারে, ফলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। একবারে অনেকটা ভাত খেলে এই প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে সাদা ভাত খাওয়ার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সম্পর্কও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। তবে শুধু ভাত খাওয়ার অভ্যাস দিয়ে কারও ডায়াবেটিস হবে কি না, তা নির্ধারণ করা যায় না।
খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে
তিন বেলার খাবারেই যদি ভাতের পরিমাণ বেশি থাকে, তাহলে মাছ, ডিম, ডাল, শাকসবজি ও ফলের মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার জায়গা কমে যেতে পারে। এতে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু ভাতের পরিমাণ নয়, পুরো খাবারের পুষ্টিগুণের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
তাহলে কি তিন বেলা ভাত খাওয়া বন্ধ করতে হবে?
সুস্থ মানুষের জন্য দিনে তিন বেলা ভাত খাওয়া নিজে থেকেই ক্ষতিকর নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং প্রতিবারের খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা। সম্ভব হলে সাদা চালের পাশাপাশি লাল চাল বা বাদামি চালের মতো অপেক্ষাকৃত আঁশসমৃদ্ধ শস্য বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে চালের ধরন অনুযায়ী পুষ্টিগুণ ও রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
সুস্থ থাকতে কী করবেন?
খাবারের প্লেটে ভাতের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল এবং মাছ, ডিম বা অন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। একবারে অতিরিক্ত ভাত খাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন। ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী ভাতের পরিমাণ নির্ধারণ করতে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
অর্থাৎ বলা যায়, দিনে তিন বেলা ভাত খাওয়াই শরীর খারাপ হওয়ার মূল কারণ নয়। বরং অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত খাওয়া, খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভাত পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত খাওয়া ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ থাকার কার্যকর উপায়।