একাধিক ছাত্রীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হয়েছেন অধ্যাপক তথা কংগ্রেস সাংসদ আংগমচা বিমল আকইজাম। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে এখনও কোনও পদক্ষেপ করেনি হাত শিবির। এই পরিস্থিতিতে সোমবার রাজধানীতে প্রতিবাদে সরব হল বিজেপি।
এদিন আংগমচা এবং হাত শিবিরের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন বিজেপি নেতারা। তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। সেখানে লেখা ‘মার্কসের বিনিময়ে যৌনতা’। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজও। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী এবিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি। কেন তিনি নীরব?” বিজেপি সাংসদের প্রশ্ন, আংগমচার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না হাত শিবির? বিজেপির আরেক সাংসদ তরুণ চুঘ বলেন, “আংগমচার কংগ্রেস নেতাদের কোলে বসে আছেন।” তাঁর কথায়, “১১ জন ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করা এক ব্যক্তিকে কংগ্রেস কেন আড়াল করছে?”
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে। জেএনইউ-র ১১ জন ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসির কাছে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের চার মাস পরও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়। এর জেরে গত মাসে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ দেখায়। স্বচ্ছ তদন্তের দাবি সরব হন তাঁরা। গোটা ঘটনায় কংগ্রেস এনএসইউআই এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। ঘটনায় দিল্লি মহিলা কমিশনও সেপ্টেম্বর মাসে জেএনইউ-র কাছে রিপোর্ট তলব করে।
তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন আংগমচা। তাঁর দাবি, মিথ্যা অভিযোগ তুলে কিছু চক্রান্তকারী তাঁর দুর্নাম করার চেষ্টা করছেন। তবে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর জেএনইউ-র চাকরি খোয়াতে হয়েছে আংগমচাকে। প্রসঙ্গত, জেএনইউ-এর ‘স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস’-এর ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ সোশ্যাল সিস্টেমস’-এর অধ্যাপক ছিলেন আংগমচা। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মণিপুর থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে সাংসদ হন তিনি।
