অবসরের প্রায় এক যুগ পর পেশাদার ফুটবল খেলতে নামছেন ৪৬ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো গাউচো। আগামী ১৫ নভেম্বর ইতালির তৃতীয় স্তর সিরি-সি’র ম্যাচে তিনি র্যাভেনার হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামবেন। গত জুনে প্রথমবার ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে চমকে দিয়েছিলেন ড্রিবলিংয়ের এই জাদুকর।
এরপর সর্বশেষ গতকাল (শুক্রবার) নতুন ক্লাবের হয়ে আবারও মাঠে নামার তারিখ ঘোষণা করেন রোনালদিনহো। ১৫ নভেম্বর র্যাভেনা বনাম ফরলি এফসির ডার্বি ম্যাচে তার সেই অপেক্ষা শেষ হবে। এর আগে পেশাদার ক্যারিয়ারে সর্বশেষ ২০১৫ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে খেলেছিলেন ব্রাজিলের এই ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি।
আরও পড়ুন
এক বিবৃতিতে সিরি-সি’র ক্লাব র্যাভেনা জানিয়েছে, ‘এটি এমন একটি আয়োজন যা বিশ্বের নজরকে ‘স্তাদিও ব্রুনো বেনেত্তি’র দিকে ঘুরিয়ে দেবে। পুরো ফুটবল বিশ্ব হয়তো এটিকে সত্য হওয়ার মতো নয় ভেবেছিল, অথচ এখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের কথা নিশ্চিত করতে পারছি। সেই জাদু, সেই হাসি আর এমন এক প্রতিভার প্রত্যাবর্তন; যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভক্তদের মুগ্ধ করে রেখেছে, তাদের প্রিয় দল বা ফুটবল আনুগত্য যা-ই হোক না কেন।’
ইতালির এমিলিয়া-রোমাগনা অঞ্চলের ছোট্ট শহর র্যাভেনার ক্লাবটি সাধারণত বিশ্ব ফুটবলে খুব একটা আলোচিত নাম নয়। মাত্র ১২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম নিয়ে সিরি সি-তে খেলে তারা। কিন্তু রোনালদিনহোর আগমনে মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়ে গেছে ক্লাবটি। র্যাভেনার মালিক ইগ্নাজিও চিপ্রিয়ানি ২০২৪ সালে ক্লাবটি কিনেছিলেন সিরি আ-তে তোলার স্বপ্ন নিয়ে। তার কাছে রোনালদিনহো শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং শৈশবের অনুপ্রেরণার নাম। চিপ্রিয়ানি বিশ্বাস করেন, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির উপস্থিতি ক্লাবের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এর আগে র্যাভেনায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে রয়টার্সকে রোনালদিনহো বলেছিলেন, ‘এত বছর ধরে চিপ্রিয়ানি পরিবারের সঙ্গে এবং আমাদের অন্য বন্ধুদের সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই সুযোগটি এসেছে। আমি ভীষণ আনন্দিত। আমরা আশা করি, সবকিছু ভালোভাবেই এগোবে। র্যাভেনা সফল হোক, ক্লাবটির সবকিছু ভালোভাবে এগিয়ে যাক। আমাদের চিন্তাভাবনাও অনেকটাই একই রকম। আর সে কারণেই আমরা একসঙ্গে এই পথচলা শুরু করেছি।’
এর আগে ২০০৮-১১ এসি মিলানের জার্সিতে ইতালিয়ান ফুটবলাঙ্গনে দ্বিতীয় দফায় খেলেছিলেন রোনালদিনহো। এ ছাড়া বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে গায়ে তুলেছিলেন বার্সেলোনা এবং পিএসজির জার্সিও। ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ড ২০০৫ সালে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।
এএইচএস
