গোলাপি মানেই কোমল, মিষ্টি আর রোমান্টিক। প্রচলিত এই ধারণাকেই যেন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ফিকে গোলাপি পোশাকে গভীর নেকলাইন, করসেটের আদলে আঁটসাঁট সিলুয়েট আর মেঝে ছুঁয়ে যাওয়া ট্রেনের নাটকীয়তায় অভিনেত্রীর সাজ হয়ে উঠেছে সাহসী ও মোহময়।
ফ্যাশনে চমক দিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জুড়ি মেলা ভার। কখনো পশ্চিমা পোশাকে আধুনিক গ্ল্যামার, কখনো দেশীয় সাজে ঐতিহ্যের ছোঁয়া, প্রতিবারই নিজের স্টাইল দিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এবার তাঁর পোশাকের রং ফিকে গোলাপি হলেও, নকশা ও কাটে ছিল যথেষ্ট সাহসী আবহ।

প্রিয়াঙ্কার পরনে ছিল ফ্যাশন ব্র্যান্ড মাতিয়ের ফেকাল-এর স্প্রিং/সামার ২০২৭ রেডি-টু-ওয়্যার সংগ্রহের একটি বিশেষ এনসেম্বল। পোশাকটি স্টাইল করেছেন সেলিব্রিটি স্টাইলিস্ট ল রোচ। প্রথম দেখায় হালকা গোলাপি রংটি কোমল মনে হলেও, গভীর নেকলাইন, শরীরের সঙ্গে মানানসই কাটিং এবং পেছনে ছড়িয়ে থাকা লম্বা ট্রেন পুরো সাজে যোগ করেছে নাটকীয়তা।
জ্যাকেটের কাটিংয়েই বাজিমাত

প্রিয়াঙ্কার এই সাজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল জ্যাকেটটি। শরীরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে বসে থাকা জ্যাকেটের গভীর ভি-আকৃতির নেকলাইন নেমে এসেছে কলারবোনের অনেক নিচ পর্যন্ত। কোমরের কাছে আঁটসাঁট কাটিং তৈরি করেছে করসেটের আদলে একটি সুগঠিত সিলুয়েট, যা পোশাকটিকে দিয়েছে আরও স্পষ্ট অবয়ব।
ফিকে গোলাপি কাপড়জুড়ে ছিল সূক্ষ্ম ধাতব আভাযুক্ত ফুলের নকশা। এই অলংকরণে তৈরি হয়েছে ব্রোকেড কাপড়ের মতো সমৃদ্ধ আবহ। লম্বা হাতার বিশেষ কাটিংয়ে ছিল নাটকীয় স্লিট, যার ফাঁক দিয়ে সামান্য ত্বক দৃশ্যমান হয়েছে। হাতার প্রান্তে পালকের মতো নকশা যোগ করেছে বাড়তি টেক্সচার ও চলমানতার অনুভূতি।

রোমান্টিক ফুলেল নকশা, ভিক্টোরিয়ান আমলের পোশাকের কথা মনে করিয়ে দেওয়া বিশদ বিবরণ আর আধুনিক কাটিং। সব মিলিয়ে জ্যাকেটটি হয়ে উঠেছে প্রচলিত গোলাপি পোশাকের চেয়ে একেবারেই আলাদা।
পেন্সিল স্কার্ট ও দীর্ঘ ট্রেনে নাটকীয়তা

জ্যাকেটের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা পরেছিলেন একই রঙের পেন্সিল স্কার্ট। শরীরের গড়নের সঙ্গে মানানসই স্কার্টটির দৈর্ঘ্য হাঁটুর কিছুটা নিচে। নিচের দিকে ফ্রিঞ্জের কাজ এবং পোশাকজুড়ে থাকা ধাতব বর্ডার ফুলেল নকশাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তবে পুরো সাজে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পেছনে ছড়িয়ে থাকা দীর্ঘ ট্রেন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি এই অংশটি হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি করেছে নাটকীয় আবহ। জ্যাকেট ও স্কার্টের নিখুঁত কাটিংয়ের সঙ্গে ট্রেনের এই বিস্তৃত উপস্থিতি প্রিয়াঙ্কার সাজে এনেছে রেড কার্পেটের উপযোগী আভিজাত্য।
অনুষঙ্গে সংযত আভিজাত্য

পোশাকের নকশাই যেহেতু ছিল সাজের মূল আকর্ষণ, তাই আনুষঙ্গিক উপকরণে খুব বেশি বাড়াবাড়ি করেননি প্রিয়াঙ্কা। কানে ছিল ছোট মুক্তার মতো স্টাড, হাতে সোনালি আভাযুক্ত ঘড়ি ও সূক্ষ্ম আংটি। এসব অনুষঙ্গ পোশাকের জটিল নকশার সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে বরং সাজে যোগ করেছে পরিমিত ঝলক।
পায়ে ছিল সরু স্ট্র্যাপের সূচালো গোলাপি হিল। গোড়ালির চারপাশে জড়ানো স্ট্র্যাপ এবং পোশাকের সঙ্গে রঙের সামঞ্জস্য পুরো লুকটিকে করেছে আরও সুসংহত।
পুরোনো হলিউডের ছোঁয়ায় মেকআপ ও হেয়ারস্টাইল

চুলে ছিল পাশ থেকে সিঁথি করা ঘন ঢেউ খেলানো স্টাইল। কাঁধের ওপর নরমভাবে নেমে আসা চুলের প্রান্ত এবং গভীর সাইড-পার্টিং মুখাবয়বকে দিয়েছে পুরোনো হলিউডের গ্ল্যামারের ছোঁয়া।
মেকআপেও ছিল পরিমিত সৌন্দর্য। চোখের সাজ ছিল স্পষ্ট, গালে হালকা গোলাপি আভা আর ঠোঁটে মভি-গোলাপি গ্লসি লিপ কালার। পোশাকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজটি পুরো লুককে করেছে আকর্ষণীয়, কিন্তু অতিরিক্ত ভারী নয়।
গোলাপি রঙের চেনা ধারণায় নতুন মোড়

গোলাপি পোশাককে সাধারণত কোমলতা ও রোমান্টিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। প্রিয়াঙ্কার এই সাজ দেখাল, একই রং দিয়েও তৈরি করা যায় আত্মবিশ্বাসী, সাহসী ও নাটকীয় ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। এর জন্য প্রয়োজন পোশাকের কাটিং, নকশা, গড়ন এবং অনুষঙ্গের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য।
মাতিয়ের ফেকাল-এর এই এনসেম্বলে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সেই ভারসাম্যই তুলে ধরেছেন। মিষ্টি গোলাপির আড়ালে ছিল দৃঢ় ফ্যাশন-ব্যক্তিত্ব; আর গভীর নেকলাইন, করসেটের আদলের কোমর ও দীর্ঘ ট্রেন মিলিয়ে তাঁর সাজ হয়ে উঠেছে নজরকাড়া এক ফ্যাশন মুহূর্ত।
ছবি: এএফপি
