যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয় দেশেই আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সামরিক কৌশলের রূপরেখা তৈরি করেছে। ইসরাইলে সংসদ নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আবহ বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে বড় কোনো সামরিক হামলা চালানো হবে না। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই তেহরানের বিরুদ্ধে একটি স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে সামরিক মহড়া ও হামলার কৌশল অনুশীলনও জোরদার করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্ভাব্য এই হামলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাদের টার্গেট তালিকায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় আক্রমণ ইরানের অর্থনীতিকে ধসের মুখে ফেলতে পারে, যা আট মাসের সংঘাতের পর দেশটিকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনার অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, কারণ চলতি বছরের শুরু থেকেই তিনি একাধিক বড় সংঘাতের পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছেন।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। তেহরান জানিয়েছে, নতুন কোনো হামলা হলে তাদের জবাব কেবল বাণিজ্যিক বা জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তারা সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল ও ডেটা সেন্টারেও আঘাত হানবে। ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি অভিযানের ধারণাকে কল্পনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, এবারের প্রতিরোধ কৌশল আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ও ভিন্নধর্মী হবে। বিশেষ করে মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে তেলের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মার্কিন জনগণের ওপর। ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি জানান, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটন তাদের অভিযান শেষ করবে—এমন চিন্তা একটি কল্পনাপ্রসূত ধারণা মাত্র।
আগামী নভেম্বরের শুরুতে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার মেরিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির সমাবেশ চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে। তবে ২৭শে অক্টোবরের ইসরাইলি নির্বাচন এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পুরো পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে জটিল করে তুলেছে। মূলত ভোটের আগে জ্বালানি তেলের দাম ও যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত বিরত থাকলেও, হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়ার জন্য সব বিকল্পই তাদের টেবিলে খোলা রয়েছে।
The post যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন সামরিক ছক, ইরানে হামলার প্রস্তুতি appeared first on Daily Sangbad Chorcha.
