জামালপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ এলাকায় সড়ক সংস্কারের সময় ভারী রোলার মেশিনের চাপে তিতাস গ্যাসের প্রধান সংযোগ পাইপলাইন ফেটে প্রায় ২৫ দিন ধরে গ্যাস নির্গত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি বজায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ বা তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাঁচ মাস আগে পৌর শহরের মুসলিমাবাদ এলাকার পরিচর্যা ক্লিনিক থেকে মুসলিমাবাদ জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজের কচ্ছপগতির কারণে শুরু থেকেই পথচারী ও এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত মাসের শেষের দিকে রাস্তা সমান করার উদ্দেশ্যে ভারী রোলার মেশিন চালানোর সময় ভূগর্ভস্থ তিতাস গ্যাসের প্রধান পাইপলাইনটির দুটি স্থানে ফাটল ধরে এবং তখন থেকেই সেখান থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে।
খোলা স্থানে এভাবে অবিরাম গ্যাস নির্গত হওয়ায় পুরো এলাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা ভয়াবহ বিস্ফোরণের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পথচারীদের অসাবধানতাবশত ফেলা সিগারেটের আগুন বা দেশলাইয়ের কাঠি থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, পাইপ ফাটার কারণে লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় আশপাশের বাসাবাড়ির বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে স্থানে গ্যাস লিক হচ্ছে তার একেবারে লাগোয়া অবস্থিত মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক শিশু পড়াশোনা করতে আসে। অবিরাম গ্যাস লিকের ফলে বাতাসে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় কোমলমতি শিশুদের শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এই শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির মতো অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আতঙ্কিত অভিভাবকেরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ফারহান আহমেদ বাদল জানান, রাস্তা সমতল করার সময় রোলারের চাপে পাইপটি ফেটে যাওয়ার পর থেকেই গ্যাস বের হচ্ছে। প্রায় ২৫ দিন ধরে গ্যাস নির্গত হলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা তাঁদের চরম উৎকণ্ঠায় রেখেছে। আরেক বাসিন্দা আঙ্গুর বলেন, পথচারীদের ফেলা সিগারেটের আগুন থেকে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। লাইনে গ্যাস লিক করার কারণে বাসাবাড়িতেও কাঙ্ক্ষিত গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নীরব হোসেন বলে, ‘স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে গ্যাসের কেমন যেন গন্ধ পাই, মাঝে মাঝে এর কারণে শরীরও চুলকায়।’
রাস্তা সংস্কারের সময় গ্যাস পাইপলাইন ফাটার বিষয়ে জামালপুর পৌরসভার সচিব মো. হাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম এটি অবগত হয়েছেন। অন্যদিকে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জামালপুরের ম্যানেজার দুর্জয় জানান, ফাটল ধরা স্থানটিতে পানি জমে থাকায় এতদিন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে আজ থেকে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে এবং আগামীকালের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ত্রুটিপূর্ণ পাইপলাইন সম্পূর্ণ মেরামত করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।
