পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর দায়ে গেল ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। এ তথ্য প্রকাশিত হলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়, আলোচনা-সমালোচনা।
ঘটনার চারদিন পর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে গোপন এক চিঠি দেয়, জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এতে জানানো হয়, সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা ছিল, সাইবার অপরাধে আর সুইটি আক্তারের ব্যভিচারের।
তবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনোভাবে কিছু জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, বিচারকাজ তিন বছর ধরে চললেও ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কনস্যুলেট বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় নোট ভারবাল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। চাওয়া হয়েছে দুই বাংলাদেশির মামলার বিস্তারিত তথ্য ও রায়ের অনুলিপি।
সৌদিতে মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে শ্রীলঙ্কা এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড হলেও, লঙ্কান সরকারের দেনদরবার আর আইনি লড়াইয়ে সেটি যাবজ্জীবনে নেমে আসে। তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন সেটি হচ্ছে না। এক্ষেত্রে দূতাবাসের গাফিলতি দেখছেন, অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অনেকখানেই সেগুলো আছে। আমরা নিজেরাও যখন সেখানে যাই, কোনো কোনো জায়গায় রিপোর্টিং ভিসা অথবা নন রিপোর্টিং ভিসা হয়। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী যে দুই-তিনটা দেশ আছে, কোনো কোনো সময় আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি। সেটার ভালো দিকটা হচ্ছে আমি নিজে যদি বিপদে পড়ি, সেই তথ্যটা ইমিডিয়েটলি আমাদের দূতাবাস জানবে এবং সেই অনুযায়ী তারা কোনোরকম অ্যাকশনে যেতে পারবে। এটা আমাদের সব মানুষের জন্য কিন্তু বিদেশে নেই।’
বর্তমানে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে নানা মামলায় ৩০৬ বাংলাদেশী আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করছেন।
