আজকাল ওয়েবডেস্ক: বালুতটের ক্যানভাসে এবার শুধুই বালির ছোঁয়া নয়, তার সঙ্গে মিশে গেল প্রকৃতির নানা উপহার। চলতি বছরের দুর্গাপূজায় পুরীর সমুদ্রসৈকতে এক অভিনব ভাস্কর্য গড়ে তুললেন প্রখ্যাত বালুশিল্পী ও পদ্মশ্রী প্রাপক সুদর্শন পট্টনায়েক। চিরাচরিত বালুর সঙ্গে প্রায় ৩২ রকমের শাকসবজি ও ফলমূল ব্যবহার করে মা দুর্গার এক অনন্য প্রতিমা রূপ দিয়েছেন তিনি। উৎসবের আবহ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য ও তার সৃজনশীল ব্যবহারের বার্তা দেওয়াই ছিল এই সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য।
Happy Maha Saptami! 🙏 On this auspicious occasion, I have created a sand art installation at Puri Beach, Odisha, using 32 varieties of fruits and vegetables 22 vegetables and 10 fruits. May Maa Durga bless everyone with strength, happiness, peace, and prosperity. #MahaSaptami #DurgaPuja #MaaDurga #SandArt #PuriBeach #Odisha
— Sudarsan Pattnaik (@sudarsansand) October 17, 2026
শিল্পী জানিয়েছেন, এই ভাস্কর্যে মোট ২২ রকমের শাকসবজি এবং ১০ ধরনের ফল ব্যবহার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম এএনআই-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুদর্শন পট্টনায়েক বলেন, দুর্গাপূজার সময়ে শিল্পীরা সবসময়েই মাকে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। সেই ভাবনা থেকেই পুরীর বেলাভূমিতে এবার শাকসবজি ও ফলের সমন্বয়ে এই ইনস্টলেশন স্কাল্পচার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রকৃতি যে কতটা সুন্দর এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে কতটা নান্দনিকভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন শিল্পী। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি এবং সকলের ওপর মায়ের আশীর্বাদ বর্ষণের প্রার্থনাও জানান তিনি।
বাঙালির দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি সৃষ্টিশীলতা, ঐতিহ্য এবং মিলনমেলার এক বিশাল মঞ্চ। মন্দের ওপর ভালোর জয় উদযাপনের এই উৎসবে মহাসপ্তমী থেকে বিজয়াদশমী পর্যন্ত মেতে ওঠে বাংলাসহ গোটা দেশ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ইউনেস্কোর আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (ইন্ট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ) স্বীকৃতি পেয়েছিল কলকাতার দুর্গাপূজা। কোনও পাথরের স্থাপত্য নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান শিল্পভাবনা, কারিগরি দক্ষতা ও সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক অংশগ্রহণের কারণেই এই স্বীকৃতি। উৎসবের সেই চিরায়ত ঐতিহ্য ও সৃষ্টিশীলতার রেশ ধরে এবার পুরীর সৈকতেও ধরা পড়ল মা দুর্গার এক অপূর্ব ও পরিবেশবান্ধব রূপ।
