নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও দলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদা দাবি, সন্ত্রাস ও জমি দখলের সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ী মো. আবুল কাশেম। শনিবার (২৪ অক্টোবর) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবুল কাশেম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর যশোর প্রেসক্লাবে হযরত আলী নামের এক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর ও তাঁর রাজনৈতিক দল ও পদবি উল্লেখ করে নানা অপপ্রচার চালান। সেখানে আবুল কাশেম ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারপিটের মনগড়া অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে আবুল কাশেম বলেন, অভিযোগকারী হযরত আলী সাবেক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে যশোরে অবস্থান করছেন। হযরত আলী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী দাবি করলেও তা সম্পূর্ণ মিথ্যা; তিনি দীর্ঘ ২০-২২ বছর আগে দুবাই থেকে দেশে ফেরেন।
প্রকৃত ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতা আবুল কাশেম বলেন, উত্তর কাগজপুকুর এলাকায় খাস জমির একটি অংশ (হাফ শতক) নিয়ে মোখলেসুর রহমান ও জালাল উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই তাঁর ও হযরত আলীর আত্মীয়। ওই জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইতিপূর্বে স্থানীয়ভাবে এবং বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশের মধ্যস্থতায় আপসের চেষ্টা করা হয়। তবে হঠাৎ জালালের স্ত্রী ওই খাস জমিতে গোয়ালঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হযরত আলী আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে নির্দোষ শিক্ষার্থী, পোর্ট লেবার, দিনমজুর ও ব্যবসায়ীদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই ও বেনাপোল পোর্ট থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
আবুল কাশেম আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে সি অ্যান্ড এফ ব্যবসা পরিচালনা করছি, বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় মসজিদের সভাপতির দায়িত্বে আছি। সেখানে কোনো ধরনের জমি দখল বা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির প্রশ্নই ওঠে না। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আমাকে এবং আমার দলকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই হযরত আলী এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেমের সাথে তাঁর প্রতিবেশী আজিজুর রহমান খোকন, চাচা শহিদুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, নাজমুল হোসেন, জুলফিকার আলী এবং আত্মীয় আরিফুল ইসলামসহ পরিবারের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
