২৯ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ২৯ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
মাঠে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চলছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে। বয়সের ভারে সেই লড়াই এখন অনেকটাই স্তিমিত। একজনের বয়স ৪১, অন্যজনের ৩৯। বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চেও উঠে এসেছে নতুন প্রজন্মের তারকারা। কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হলান্ড কিংবা লামিনে ইয়ামালরা দাপট দেখাচ্ছেন মাঠে। কিন্তু আয়ের হিসাবে এখনও তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলারদের তালিকায় আবারও শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই দুই মহাতারকা। তবে মেসির চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি আয় করে সবার ওপরে রোনালদো।
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলারদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন রোনালদো। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে পর্তুগিজ তারকার সম্ভাব্য আয় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির সম্ভাব্য আয় ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।
অর্থাৎ আর্জেন্টাইন মহাতারকার চেয়ে রোনালদো আয় করবেন প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি।
টানা চতুর্থ মৌসুমে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা দুই ফুটবলার রোনালদো ও মেসি। গত ১৩ বছরের মধ্যে ১২ বারই এই দুজন জায়গা করে নিয়েছেন তালিকার শীর্ষ দুইয়ে। ব্যতিক্রম শুধু ২০২২ সাল। সেবার পিএসজির সঙ্গে নতুন চুক্তিতে বড় অঙ্কের বোনাস পাওয়ায় শীর্ষে উঠে এসেছিলেন এমবাপে।
বর্তমানে সৌদি আরবের আল নাসরে খেলছেন রোনালদো। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ক্লাব থেকেই চলতি মৌসুমে তার আয় হবে প্রায় ২৫ কোটি ডলার। বাকি ৫ কোটি ডলার আসবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিজ্ঞাপনচুক্তি ও ব্যবসা থেকে।
চলতি বছরের শুরুতেই আরও একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন রোনালদো। প্রথম সক্রিয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে ক্যারিয়ারজুড়ে কর ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার আগে ২০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন তিনি। ফোর্বসের হিসাবে, পর্তুগিজ তারকার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০ কোটি ডলার।
অন্যদিকে ইন্টার মায়ামিতে খেলা মেসির আয়ের ধরন কিছুটা আলাদা। ক্লাবের হয়ে খেলা থেকে তার সম্ভাব্য আয় ৭ কোটি ডলার। কিন্তু মাঠের বাইরে বিজ্ঞাপনচুক্তি ও বিভিন্ন ব্যবসা থেকে আয় আরও বেশি, প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
মেসির সঙ্গে অ্যাডিডাস ও অ্যাপল টিভির বাণিজ্যিক চুক্তিও রয়েছে। পাশাপাশি মাস্টারকার্ডসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর তিনি। চলতি বছর আরও কয়েকটি নতুন চুক্তি করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ফোর্বসের ধারণা, আগামী বছরের মধ্যেই তার ক্যারিয়ারের মোট আয়ও ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
তবে দুই কিংবদন্তির বাইরে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররাও আয়ের দিক থেকে দ্রুত এগিয়ে আসছেন। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। তার সম্ভাব্য আয় ১০ কোটি ডলার।
চতুর্থ স্থানে ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড। নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের আয় হতে পারে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। পঞ্চম স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সম্ভাব্য আয় ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
তবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলার হয়ে উঠেছেন বার্সেলোনার এই স্প্যানিশ তারকা। তার সম্ভাব্য আয় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অথচ গত বছর আয় ছিল ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ইয়ামাল। ফাইনালে তার দল হারিয়েছিল মেসির আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপের সাফল্যের পর মাঠের বাইরেও ইয়ামালের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। আমেরিকান ঈগল, কোকাকোলা ও ম্যাকডোনাল্ডসের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আয়ও বেড়েছে তার।
তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন রোনালদোর আল নাসর সতীর্থ সাদিও মানে। সেনেগালের এই ফরোয়ার্ডের সম্ভাব্য আয় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অষ্টম স্থানে রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম, আয় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন। তার সম্ভাব্য আয় ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। দশম স্থানে রয়েছেন মিসরের তারকা মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুল ছেড়ে তুরস্কের ত্রাবজোনস্পোরে যোগ দেওয়া এই ফরোয়ার্ডের আয় হতে পারে ৪ কোটি ডলার।
এবারের তালিকায় বড় পরিবর্তন করিম বেনজেমার অনুপস্থিতি। গত বছর ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের আয় ছিল ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। কিন্তু সৌদি আরবের আল ইত্তিহাদ থেকে আল হিলালে যাওয়ার পর আগস্টে চুক্তি বাতিল করেন তিনি। বর্তমানে কোনো ক্লাবে না থাকায় শীর্ষ দশ থেকে ছিটকে গেছেন বেনজেমা। তার জায়গায় ফিরেছেন কেইন।
ফোর্বসের হিসাবে, বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা দশ ফুটবলার মিলে চলতি মৌসুমে আয় করবেন ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছর এই অঙ্ক ছিল ৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ অধিকাংশ তারকার আয় বাড়লেও বেনজেমার অনুপস্থিতিতে সম্মিলিত আয় কিছুটা কমেছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, শীর্ষ দশ ফুটবলারের মোট আয়ের প্রায় অর্ধেকই আসবে শুধু রোনালদো ও মেসির কাছ থেকে। দুই তারকার সম্মিলিত আয় ৪৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
তালিকায় সবচেয়ে বেশি চারজন ফুটবলার রয়েছেন স্প্যানিশ লা লিগা থেকে। তাদের মধ্যে তিনজনই রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপে, ভিনিসিয়ুস ও বেলিংহাম। অন্যজন বার্সেলোনার ইয়ামাল।
অন্যদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে জায়গা পেয়েছেন শুধু হালান্ড। ২০০৫ সালে ফোর্বস এই তালিকা প্রকাশ শুরু করার পর এবারই প্রথম শীর্ষ দশে প্রিমিয়ার লিগের একাধিক ফুটবলার নেই।
