চাঁদপুরে ৪০০ একর কৃষিজমিতে ৫০টি ঝিল, উচ্ছেদ অভিযান
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমি দখল করে মাছ চাষের নামে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে একটি এক্সকেভেটর জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রভাবশালী একটি চক্র ৪০ থেকে ৫০টি ঝিল তৈরি করে পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষিজমি দখল করেছে। এসব জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে জমির মালিকদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।’
জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, ‘এই জমিতে তাদের পূর্বপুরুষেরা বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করেছে।’
আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী জানান, মুখদ্দি এলাকায় তার পৈতৃক ২২ একর জমি রয়েছে। সেখানে মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, ‘প্রায় ৪০০ একর জমিতে একটি চক্র পুকুর খনন করে আসছিল। এর আগে প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে এক্সকেভেটর বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা ও নদীর উত্তাল পরিস্থিতির কারণে অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।’
সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ‘নদীর ওপার থেকে এসে একটি চক্র আবাদি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান শেষে তারা আবারও একই কাজে ফিরে আসে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমি কমে যাবে। জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অভিযানে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা, যুবদলের নেতাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফয়েজ/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
শেরপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->শেরপুরের শ্রীবরদীতে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কুড়িকাহনিয়া বাজার এলাকার কুটেমনি ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে একটি প্লাস্টিকের ড্রাম খালের পানিতে ভাসতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। পরে তারা গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে শ্রীবরদী থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামটি খুললে গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় এক নারীর মরদেহ দেখতে পান। এ ছাড়া মরদেহের কপাল ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানা যায়। নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি।
আরও পড়ুন
ধারণা করা হচ্ছে, কেউ তাকে হত্যা করে মরদেহটি এখানে ফেলে যায়।
শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুলিশ ও পিবিআই টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শাকিল মুরাদ/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ
-->রাঙামাটির সাজেকে তৃতীয় দফায় ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত দুই সংগঠনের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সাজেকের উজোবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় চার হাজার পর্যটককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়।
অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র দ্বিতীয় দফায় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ সকাল ৬টা থেকে দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে অনির্দিষ্টকালের এ অবরোধ শুরু হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন অবরোধকারীরা।
আরও পড়ুন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাজেক থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের বহর উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
দুর্গাপূজার টানা ছুটির মধ্যে অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটন খাতে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে শতভাগ আগাম বুকিং থাকলেও পরিস্থিতির কারণে সেসব বুকিং বাতিল করতে হয়েছে। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সব খাত মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
মূলত তিন দফা দাবি এবং জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র তৎপরতা ও উৎপাতের প্রতিবাদে তৃতীয় দফায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’। সংগঠন দুটির পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কের উজোবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করা হয়।
এর আগে, গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর দুই দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। একই সময়ে গত ১১ অক্টোবর দেওয়া সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করেন জেলা প্রশাসক। পাঁচ দিনের বিরতি শেষে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘থেমে থেমে গোলাগুলির খবর পেয়েছি। তবে পর্যটকরা নিরাপদে সাজেক ছেড়েছে।’
জিয়াউর রহমান/সালমান/
আরও পড়ুন
দেড় মিনিটে মন্ত্রীকে ২৫ বার ‘স্যার’ বলে আলোচনায় ইউএনও
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম দেড় মিনিটের বক্তব্য ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যেখানে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে ২৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধন করেছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজারহাটে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ইউএনও তানজিলার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার বৈদ্যের বাজার হরিসভা সংস্কৃতি দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে অসচ্ছল হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তানজিলা তাসনিম। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
আরও পড়ুন
বক্তব্যে রাজারহাটে একটি সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইউএনও বলেন, ‘সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। এ অবস্থায় রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে শুধু এ উপজেলা নয়, উত্তরবঙ্গের মানুষও উপকৃত হবেন।’ এ বিষয়ে যথাসময়ে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এ ছাড়া রাজারহাটে প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন এবং হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য উপহার দেওয়ায় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউএনও। ভিজিএফের চাল বস্তাবন্দি করার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। তার ভাষ্য, আগে চালের বস্তা ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা হতো। নতুন উদ্যোগের ফলে এসব সমস্যা কমবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেল নিয়েও মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তানজিলা তাসনিম। তার মতে, এ উদ্যোগ চাকরিজীবীদের কাজের উদ্দীপনা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন তানজিলা তাসনিম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারের ইউএনও থাকাকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে এক পর্যটককে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, সদস্যসচিব সাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি, সরকারি উদ্যোগের প্রশংসা ও চাকরিজীবীদের বিষয় বক্তব্যে স্থান পেলেও মন্ত্রীকে বারবার ‘স্যার’ সম্বোধনের বিষয়টি ঘিরেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম।
সিরাজ/অলি/
আরও পড়ুন
নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জেলা প্রেসক্লাবের সামনে রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) জেলা শাখার উদ্যোগে এবং আলিফের পরিবার ও গ্রামবাসীর উদ্যোগে কলমাকান্দার শুনই এলাকায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আরজেএফ আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলা শাখার সভাপতি সুজাদুল ইসলাম ফারাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, আরজেএফের চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জাহিদ হাসান ও দৈনিক জননেত্র পত্রিকার সম্পাদক এম মুখলেছুর রহমান খান প্রমুখ।
আরও পড়ুন
এদিকে একই সময়ে কলমাকান্দার শুনই এলাকায় আলিফের পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আলিফের বড় ভাইসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
আরজেএফের মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হবে এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে সাগর-রুনির মতো সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ারও দৃষ্টান্ত রয়েছে। সমাজ থেকে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে হবে।’
অন্যদিকে শুনই গ্রামের মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘আলিফ সীমান্ত এলাকার অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে লিখতেন। এই কারণেই দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি আলিফের স্ত্রী-সন্তানদের জন্য রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন চাই।’
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক আলিফ। তিনি ‘রূপসী বাংলা’ নামক একটি আইপি টিভিতে সাংবাদিকতা করতেন।
পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। পেজে এলাকার মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, বালুমহালের লুটপাটসহ বিভিন্ন অনিয়ম, অপরাধ নিয়ে লেখালেখি এবং ভিডিও প্রচার করতেন।
সঞ্জয় সরকার/তামান্না রুপা/
