নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাবেক সেনাসদস্য ও বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার জেলা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ (৩৬) হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সীমান্ত এলাকার চোরাচালান, অবৈধ বালুমহাল ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় আলিফকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা।
ঢাকা পোস্টের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি স্বামীর হত্যাকাণ্ডের পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও নিজেদের বর্তমান অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন।
আনন্দিতা সাংমা বলেন, মৃত্যুর কিছু দিন আগ থেকেই আমার স্বামী লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও ডিলিট করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বিশেষ করে বক পাখি শিকার সংক্রান্ত একটি ভিডিও এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও অবৈধ লেনদেন সম্পর্কিত কিছু পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই তাকে ঠান্ডা মাথায় টার্গেট করা হয়।
এমনকি লুৎফুজ্জামান যখন ইতিপূর্বে জেলহাজতে ছিলেন, সে সময়ও এক ব্যক্তি জেলখানার ভেতরে তাকে ইনজেকশন দিয়ে হত্যার জন্য কোটি টাকার অফার করেছিল বলে জানান আনন্দিতা। এই সংক্রান্ত কল রেকর্ড ও অডিও প্রমাণ হিসেবে আলিফের মোবাইল ও ফেসবুক আইডিতে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বামী হারানো এই নারী আক্ষেপ করে বলেন, পুলিশ ও আদালত থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ অত্যন্ত অপ্রতুল। এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাত্র এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া এবং মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী শামীম, তাজুল এবং তাদের সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, তাজুল মূলত একজন কিলার। বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে। আমরা আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা ঘটনার মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে পারব।
নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। প্রায় তিন বছর আগে বিরিশিরি এলাকার আনন্দিতাকে বিয়ে করে তিনি দুই বছরের বেশি সময় ধরে শ্বশুরবাড়িতেই থাকছিলেন। তাদের সংসারে তিন বছরের মেয়ে প্রান্তি সাংমা ও দেড় বছরের ছেলে সাফুয়ান রয়েছে।
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে রয়েছেন আনন্দিতা সাংমা। চার বছরের বিএসসি নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করলেও ছোট বাচ্চাদের লালন-পালন ও নানা প্রতিকূলতার কারণে এতদিন তার চাকরি করা হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ ও আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুসনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর দ্রুত ঢাকায় ফিরে নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি কর্মসংস্থানের চেষ্টা করতে চান তিনি।
চয়ন দেবনাথ মুন্না/আরএআর
