দেশের উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে অর্থায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে সাড়া মিলেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এবার দেশের অবশিষ্ট ৫৬ জেলার সব উপজেলায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এসব জেলায় আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পরিচালিত ‘উদ্যোগ : উপজেলাভিত্তিক তরুণ
উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র আওতায় সম্ভাবনাময় তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং নতুন উদ্যোগের বিকাশে ভূমিকা রাখতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে আট বিভাগের আটটি জেলা-মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনায় আবেদন গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব জেলার ৬৪টি উপজেলায় অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দেন আগ্রহী তরুণরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে নেত্রকোনা জেলা থেকে। এ জেলায় আবেদন পড়েছে ৫ হাজার ৩৫১টি। এ ছাড়া রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫২টি, ভোলায় ১ হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে ১ হাজার ২৬১টি আবেদন জমা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অবশিষ্ট ৫৬ জেলার সব উপজেলার আগ্রহী তরুণরা আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে। আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে। কর্মসূচির নীতিমালা গত ১৩ সেপ্টেম্বর জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও এসএমই পোর্টালে পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য, উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা। নির্বাচিত উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্সিং’ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান থাকবে। ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে অর্থায়নের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক চাহিদা, প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনা এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসার ঘটবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কারা আবেদন করতে পারবেন : আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এ কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তার নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগ, ব্যবসায়িক ধারণা অথবা নতুন ব্যবসা স্থাপনের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে। তবে আগে ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া থাকলে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে এবং সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
