বাল্যবিয়ে ঠেকাতে স্কুলের ভূমিকা শুধু পড়াশোনা করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো মেয়ে হঠাৎ স্কুলে আসা বন্ধ করলে, কেন আসছে না, সেটিও খুঁজে দেখা জরুরি।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, মেয়েদের স্কুল ছাড়ার অন্যতম কারণ বাল্যবিয়ে। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছরের আগে।
তাই বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে তাকে স্কুলে ধরে রাখার চেষ্টা করা জরুরি। তার সঙ্গে কথা বলা, সমস্যাটি বোঝা এবং প্রয়োজন হলে পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে এমন উদ্যোগের উদাহরণ রয়েছে। জাতিসংঘ বাংলাদেশের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএনএফপিএ বা জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সহায়তায় সেখানে শিক্ষকদের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থী শনাক্ত করা এবং কোনো মেয়ে হঠাৎ স্কুলে আসা বন্ধ করলে হস্তক্ষেপ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ইউনিসেফ ও ইউএনএফপিএর যৌথ কর্মসূচিতেও মেয়েদের শিক্ষা শেষ করা, স্কুলে ধরে রাখা এবং জীবনদক্ষতা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ বাল্যবিয়ে ঠেকাতে স্কুলের কাজ শুধু সচেতনতা তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। ঝুঁকিতে থাকা মেয়েটিকে চিহ্নিত করা, তার সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করাও স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
প্রতিবেদকের বয়স: ১২। জেলা: ঢাকা।
