সৌদি আরবে যে প্রক্রিয়ায় দুই বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তা দুঃখজনক উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, এটা অবশ্যই তথ্যের ঘাটতি এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো এক জায়গায় ঘাটতি রয়েছে।
সৌদি আরবে যে প্রক্রিয়ায় দুই বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তা দুঃখজনক উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, এটা অবশ্যই তথ্যের ঘাটতি এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো এক জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। এটা খতিয়ে দেখার জন্য আমরা দুই পক্ষ কথাবার্তা বলছি। এদিকে পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের ‘পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব সরকার। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশিদের নাম প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন হলেন- নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘আজেল নিউজ’ এ তথ্য জানিয়েছে।
দুই দেশ সফর শেষে দেশে ফিরে গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ করে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটা ভালো এবং গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। যে ঘটনা ঘটেছে, এখানে তথ্য বিনিময়ের ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতিটা কীসের জন্য হয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য আমরা একটা ব্যাখ্যা চেয়েছি। এখানে অবশ্যই তথ্যের ও প্রক্রিয়ায় কোনো এক জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। আমরা এটা খতিয়ে দেখার জন্য দুই পক্ষ কথাবার্তা বলছি।
তিনি বলেন, এটা অবশ্যই দুঃখজনক, অ্যালিগেশন এনে বা ক্রাইম অফেন্স এনে এক্সিকিউশনটা হলো, সেটা আমাদের জন্য হতাশার। কারণ, আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা এবং মক্কা যাওয়ার উদ্দেশ্য মানুষের পবিত্রই হয়। যেটা আমরা শুনলাম এটা যদি হয়ে থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না, রায় কার্যকর হয়ে গেছে। হয়ে গেলে এটার আর সুযোগ থাকে না। এখন আমরা দেখব ঘাটতিটা কোথায়।
দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, সেটা মিডিয়ার খবরে দেখেছেন। দেখেন, এটা পরিষ্কার। আমরা যদি সৌদি আরবের কোনো ক্রিমিনালকে ধরি এখানে অবশ্যই তাদের জানাব। কনস্যুলার সার্ভিসেস সুযোগ পেতে পারে সে। তিনি বলেন, পবিত্র জায়গা, আল্লাহর বাড়ি মানুষ পবিত্র নিয়তে যায়। ওখানে গিয়ে ওই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া তো ঠিক না, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। সুতরাং এখানে পরিষ্কার যদি ক্রাইম হয়ে থাকে এটার একটা আইন রয়েছে। তাদের লোকাল আইন রযেছে, যে যায় সৌদি আরবে সে তা জানে। ভারতের সঙ্গে কনস্যুলার ডায়ালগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডায়ালগ হবে, ওখানে আলাপ আলোচনা হবে সব বিষয় নিয়ে; যেগুলো নিয়ে দুই পক্ষের আগ্রহ থাকবে।
মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ: সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সময় ও স্থানের পবিত্রতা বিবেচনায় নিয়ে এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পবিত্র স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
