ছোট নখেও কি পাথর মানায়?
অনেকের ধারণা, ছোট নখে বুঝি জেম নেইলস ভালো লাগে না। তবে জুলি রাসেল বলছেন ভিন্ন কথা।
“ছোট এবং প্রাকৃতিক নখেও ছোট ছোট ক্রিস্টাল ব্যবহার করে চমৎকার এলিগ্যান্ট লুক আনা সম্ভব।”
এক্ষেত্রে জুলি, প্রথমে নখে একটি গ্লসি টপ কোট লাগানোর পরামর্শ দেন। এরপর নখের গোড়ার দিকে বা কিউটিকলের ঠিক কাছাকাছি (যাতে চুলে বা কাপড়ে আটকে না যায়) ১ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট আকারের একটি স্বচ্ছ রাইনস্টোন বসিয়ে দিলে নখ দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাগে।
পার্লারে যাওয়ার আগে এবং ঘরে করার নিয়ম
যেহেতু জেম নেইলস বিভিন্ন রকমের হতে পারে, তাই পার্লারে যাওয়ার সময় পছন্দের নকশার একটি ছবি সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
পার্লারের ‘নেইল টেকনিশিয়ান’কে নিশ্চিত করতে হবে যে, পাথরগুলো যেন শুধু সাধারণ টপ কোট দিয়ে না বসিয়ে একটি ঘন জেল দিয়ে ভালো করে আটকে দেওয়া হয়, যাতে তা দীর্ঘদিন টিকে থাকে।
চাইলে ঘরে বসে সাধারণ নেইল পলিশ ব্যবহার করে এটি করা যায়। সেক্ষেত্রে বেইজ রং শুকানোর পর নখের জন্য বিশেষভাবে তৈরি নেইল গ্লু ব্যবহার করে পাথর বসাতে হবে।
জেল ম্যানিকিউরের ক্ষেত্রে পাথরটি জেলে বসানোর পর ‘লাইট কিউর’ (শুকানো) করে নিতে হবে এবং পাথরের চারপাশ দিয়ে সামান্য একটু বাড়তি জেল ব্রাশ দিয়ে দিয়ে দিতে হবে, যাতে তা কাপড়ে আটকে না যায়।
তবে ভুলেও পাথরের ঠিক উপরিভাগে জেল বা টপ কোট দেওয়া যাবে না। এতে পাথরের নিজস্ব চকচকে ভাব বা ‘রিফ্লেকশন’ নষ্ট হয়ে যায়।
সুরক্ষিতভাবে পাথর তোলার উপায়
জেম নেইলস সাধারণত ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত অক্ষত থাকে। তবে নখ থেকে পাথর তোলার সময় ভুলেও টেনে, খামচে বা ধারালো কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে তোলা যাবে না। এতে নখের ক্ষতি হতে পারে।
জেল ম্যানিকিউরের ক্ষেত্রে পার্লারে গিয়ে পেশাদারদের দিয়ে তোলাই নিরাপদ।
আর ঘরে সাধারণ পলিশের ওপর আঠা দিয়ে লাগালে, রিমুভার বা অ্যাসিটোন ভেজানো তুলা নখের ওপর ৫ মিনিট চেপে ধরে রাখতে হবে। আঠা নরম হয়ে এলে পাথরগুলো নিজে থেকেই আলতোভাবে খুলে আসবে।বিশ্বজুড়ে নানামুখী অস্থিরতার এই সময়ে মানুষ এখন এমন সব জিনিসপত্রের দিকে ঝুঁকছে, যা মনে কিছুটা হলেও আনন্দের দোলা দেয়।
ঠিক এই কারণেই সাজগোজের দুনিয়ায় আবার ধুমধাম করে ফিরে এসেছে ‘বেডাজলিং’ বা পাথর ও চুমকি দিয়ে সবকিছু জমকালো করার সংস্কৃতি।
মোবাইল কেইস, কফির মগ কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার— সবকিছুতেই এখন বসানো হচ্ছে রঙিন ক্রিস্টাল বা পাথর।
তবে রূপচর্চার দুনিয়ায় এই ধারায় বড় ঢেউটি লেগেছে নেইল আর্ট বা নখের সাজে। ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘জেম নেইলস’ বা পাথর খচিত নখ।
এটি মূলত আঙুলের নখে এক টুকরো দামি গয়না পরে থাকার মতো আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলে।
জীবনযাপন ও ফ্যাশন-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এর রূপসজ্জা-বিষয়ক পরিচালক হিদার মুইর মাফেই এক প্রতিবেদনে বলেন, “এই নেইল আর্টটি পছন্দ অনুযায়ী যেমন খুব সাধারণ বা মিনিমাল হতে পারে, তেমনি আবার অত্যন্ত জমকালো বা মেক্সিমালও হতে পারে।”
কেন আবার ট্রেন্ডে ফিরল জেম নেইলস?
বিউটি ও ফ্যাশনের অন্যান্য অনেক ধারার মতো জেম নেলসের এই প্রত্যাবর্তনও মূলত নস্টালজিয়া বা অতীত তাড়নার সঙ্গে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রের সৌন্দর্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘সালি বিউটি’-এর নেইল আর্টিস্ট জুলি রাসেল বলেন, “আমরা এখন স্পষ্টভাবেই ২০০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকের ফ্যাশন সংস্কৃতির একটি পুনর্জাগরণ দেখতে পাচ্ছি। তখন চারদিকে শুধু ঝলমলে জিনিসের জয়জয়কার ছিল। গত কয়েক বছর ধরে নখের সাজে একদম সাদামাটা বা মিনিমাল ঘরানার ট্রেন্ড চলার পর, এখন আবার সেই পুরানো ঝলমলে রূপটিই মনে-প্রাণে চাইছে।”
তবে এবারের জেম নেইলস কিন্তু পুরোপুরি আগের মতো নয়। অতীতে পুরো নখ বড় বড় রাইনস্টোন বা পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হতো। আর এবারের ধারায় ব্যবহার করা হচ্ছে বেশ ছোট আকৃতির উন্নতমানের পাথর এবং নখের ওপর কৌশলী নকশা, যাতে নখের আসল রং বা বেইজ পলিশের সৌন্দর্যও ফুটে ওঠে।
চলতি সময়ের জনপ্রিয় ‘নেইল লুক’
নখ-বিষয়ক মার্কিন সৌন্দর্যবিদ জুলি রাসেল বলেন, “বর্তমানে পার্লারগুলোতে গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ‘জেম-ম্যাক্সড ম্যানিকিউর’। এর মধ্যে পোলকা-ডট স্টাইলে নখের চারদিকে রঙিন পাথর ছড়িয়ে দিয়ে নকশা করা নেইল আর্টটি তরুণীদের মন কেড়েছে।”
এই নকশার ক্ষেত্রে নখের বেইজ বা মূল রং হিসেবে উজ্জ্বলতার পরিবর্তে ‘সেমি-শেয়ার’ বা অর্ধ-স্বচ্ছ, চকচকে গোলাপি বা দুধ-সাদা রং ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, জুলি।
কারণ রঙিন পাথরগুলো নিজে থেকেই অনেক বেশি উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হয়। তাই নখের নিচের রংটি যদি হালকা বা সাধারণ হয়, তবে সাজে এক ধরনের পরিপক্ব আভিজাত্য এনে দেয়, যা দেখতে মোটেও সস্তা লাগে না।
ছোট নখেও কি পাথর মানায়?
অনেকের ধারণা, ছোট নখে বুঝি জেম নেইলস ভালো লাগে না। তবে জুলি রাসেল বলছেন ভিন্ন কথা।
“ছোট এবং প্রাকৃতিক নখেও ছোট ছোট ক্রিস্টাল ব্যবহার করে চমৎকার এলিগ্যান্ট লুক আনা সম্ভব।”
এক্ষেত্রে জুলি, প্রথমে নখে একটি গ্লসি টপ কোট লাগানোর পরামর্শ দেন। এরপর নখের গোড়ার দিকে বা কিউটিকলের ঠিক কাছাকাছি (যাতে চুলে বা কাপড়ে আটকে না যায়) ১ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট আকারের একটি স্বচ্ছ রাইনস্টোন বসিয়ে দিলে নখ দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাগে।
পার্লারে যাওয়ার আগে এবং ঘরে করার নিয়ম
যেহেতু জেম নেইলস বিভিন্ন রকমের হতে পারে, তাই পার্লারে যাওয়ার সময় পছন্দের নকশার একটি ছবি সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
পার্লারের ‘নেইল টেকনিশিয়ান’কে নিশ্চিত করতে হবে যে, পাথরগুলো যেন শুধু সাধারণ টপ কোট দিয়ে না বসিয়ে একটি ঘন জেল দিয়ে ভালো করে আটকে দেওয়া হয়, যাতে তা দীর্ঘদিন টিকে থাকে।
চাইলে ঘরে বসে সাধারণ নেইল পলিশ ব্যবহার করে এটি করা যায়। সেক্ষেত্রে বেইজ রং শুকানোর পর নখের জন্য বিশেষভাবে তৈরি নেইল গ্লু ব্যবহার করে পাথর বসাতে হবে।
জেল ম্যানিকিউরের ক্ষেত্রে পাথরটি জেলে বসানোর পর ‘লাইট কিউর’ (শুকানো) করে নিতে হবে এবং পাথরের চারপাশ দিয়ে সামান্য একটু বাড়তি জেল ব্রাশ দিয়ে দিয়ে দিতে হবে, যাতে তা কাপড়ে আটকে না যায়।
তবে ভুলেও পাথরের ঠিক উপরিভাগে জেল বা টপ কোট দেওয়া যাবে না। এতে পাথরের নিজস্ব চকচকে ভাব বা ‘রিফ্লেকশন’ নষ্ট হয়ে যায়।
সুরক্ষিতভাবে পাথর তোলার উপায়
জেম নেইলস সাধারণত ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত অক্ষত থাকে। তবে নখ থেকে পাথর তোলার সময় ভুলেও টেনে, খামচে বা ধারালো কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে তোলা যাবে না। এতে নখের ক্ষতি হতে পারে।
জেল ম্যানিকিউরের ক্ষেত্রে পার্লারে গিয়ে পেশাদারদের দিয়ে তোলাই নিরাপদ।
আর ঘরে সাধারণ পলিশের ওপর আঠা দিয়ে লাগালে, রিমুভার বা অ্যাসিটোন ভেজানো তুলা নখের ওপর ৫ মিনিট চেপে ধরে রাখতে হবে। আঠা নরম হয়ে এলে পাথরগুলো নিজে থেকেই আলতোভাবে খুলে আসবে।
