ক্রিকেটের ইতিহাসে ব্যাটসম্যানদের মতো বোলারদের কীর্তিও সমানভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকভাবে উইকেট শিকার করে অনেক বোলার নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।
টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন শ্রীলংকার কিংবদন্তি স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১ হাজার ৩৪৭ উইকেট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন এই অফ স্পিনার।
তার পেছনে রয়েছেন আরও একাধিক কিংবদন্তি বোলার। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
১. মুত্তিয়া মুরালিধরন (শ্রীলংকা) — ১,৩৪৭ উইকেট
টেস্টে ৮০০ এবং ওয়ানডেতে ৫৩৪ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে স্পিনের জাদুতে ব্যাটসম্যানদের বারবার পরাস্ত করেছেন এই কিংবদন্তি।
২. শেন ওয়ার্ন (অস্ট্রেলিয়া) — ১,০০১ উইকেট
লেগ স্পিনের অন্যতম সেরা শিল্পী ওয়ার্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক হাজার উইকেটের মাইলফলক পেরিয়েছেন। তার ঝুলিতে রয়েছে টেস্টে ৭০৮ ও ওয়ানডেতে ২৯৩ উইকেট।
৩. জেমস অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড) — ৯৯১* উইকেট
আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সফল পেসার অ্যান্ডারসন টেস্টে ৭০৪ ও ওয়ানডেতে ২৬৯ উইকেট নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সুইং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছেন তিনি।
৪. অনিল কুম্বলে (ভারত) — ৯৫৬ উইকেট
ভারতের সর্বকালের সেরা বোলারদের একজন কুম্বলে টেস্টে ৬১৯ এবং ওয়ানডেতে ৩৩৭ উইকেট শিকার করেছেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও লেগ স্পিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।
৫. গ্লেন ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া) — ৯৪৯ উইকেট
নিখুঁত লাইন-লেংথ ও ধারাবাহিকতার জন্য বিখ্যাত ম্যাকগ্রা টেস্টে ৫৬৩ এবং ওয়ানডেতে ৩৮১ উইকেট নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারিগর ছিলেন তিনি।
৬. ওয়াসিম আকরাম (পাকিস্তান) — ৯১৬ উইকেট
সুইং বোলিংয়ের কিংবদন্তি আকরাম টেস্টে ৪১৪ ও ওয়ানডেতে ৫০২ উইকেট নিয়েছেন। বিশেষ করে রিভার্স সুইংয়ে তার দক্ষতা বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
৭. স্টুয়ার্ট ব্রড (ইংল্যান্ড) — ৮৪৭ উইকেট
ইংল্যান্ডের সাবেক এই পেসার টেস্টে ৬০৪, ওয়ানডেতে ১৭৮ এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৫ উইকেট নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
৮. শন পোলক (দক্ষিণ আফ্রিকা) — ৮২৯ উইকেট
নিয়ন্ত্রিত পেস বোলিং ও কার্যকর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত পোলক টেস্টে ৪২১ এবং ওয়ানডেতে ৩৯৩ উইকেট নিয়েছেন।
৯. ওয়াকার ইউনিস (পাকিস্তান) — ৭৮৯ উইকেট
দ্রুতগতির বোলিং ও বিধ্বংসী ইয়র্কারের জন্য বিখ্যাত ওয়াকার টেস্টে ৩৭৩ এবং ওয়ানডেতে ৪১৬ উইকেট শিকার করেছেন। পাকিস্তানের পেস বোলিং ইতিহাসে তিনি অন্যতম বড় নাম।
১০. টিম সাউদি (নিউজিল্যান্ড) — ৭৭৬* উইকেট
নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই পেসার টেস্টে ৩৯১, ওয়ানডেতে ২২১ এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬৪ উইকেট নিয়েছেন। তিন ফরম্যাটেই কার্যকর বোলিং করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।
মুরালিধরনের রেকর্ড কি ভাঙা সম্ভব?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুরালিধরনের ১ হাজার ৩৪৭ উইকেটের রেকর্ড এখনো অন্য বোলারদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তার পরেই থাকা শেন ওয়ার্নের উইকেটসংখ্যা ১ হাজার ১। অর্থাৎ, প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানের ব্যবধানই ৩৪৬ উইকেট।
এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার জন্য শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা, ফিটনেস এবং ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে সফল হওয়ার ক্ষমতা। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পরিবর্তিত চাহিদার মধ্যেও যারা নিয়মিত উইকেট নিতে পেরেছেন, তারাই ক্রিকেট ইতিহাসে নিজেদের অমর করে রেখেছেন।